হঠাৎ বাইকের মাইলেজ কমে গেছে? অজান্তেই এই ভুলগুলি করছেন না তো!

জ্বালানির বাজারে আগুন দামের জেরে বর্তমান দিনে বাইক চালকদের কাছে সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মাইলেজ। বাইকে বড় কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি না থাকা সত্ত্বেও মাঝেমধ্যেই দেখা যায় আগের তুলনায় অনেক বেশি পেট্রোল খরচ হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এর পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে আমাদের কিছু ভুল ড্রাইভিং অভ্যাস এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব। একটু সচেতন হলেই অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি খরচ কমানোর পাশাপাশি বাইকের কর্মক্ষমতাও চমৎকার রাখা সম্ভব।

জ্বালানি সাশ্রয় করতে এবং বাইকের মাইলেজ বাড়াতে কোন কোন বিষয়গুলিতে নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি, তা একনজরে দেখে নেওয়া যাক:

১. বাইক চালানোর ভুল অভ্যাস: বারবার জোরে অ্যাক্সিলারেটর ঘোরানো, হঠাৎ করে সজোরে ব্রেক কষা এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে ইঞ্জিনের গতি বাড়িয়ে দেওয়ার মতো অভ্যাসে পেট্রোল খরচ অনেক বেড়ে যায়। এছাড়া অনেকক্ষণ ক্লাচ চেপে বাইক চালালেও যন্ত্রাংশের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। সবসময় মসৃণ গতিতে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করুন এবং রাস্তার পরিস্থিতি বুঝে সঠিক গিয়ার ব্যবহার করুন।

২. নিম্নমানের জ্বালানি ব্যবহার: বাইকের পারফরম্যান্স সরাসরি নির্ভর করে পেট্রোলের মানের ওপর। নিম্নমানের বা ভেজাল জ্বালানি ইঞ্জিনের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে, যার ফলে জ্বালানি খরচও বেড়ে যায়। সবসময় বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য পেট্রোল পাম্প থেকে তেল নেওয়ার চেষ্টা করুন এবং বাইক প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকা মেনে চলুন।

৩. ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তনে অবহেলা: বাইকের প্রাণ হলো ইঞ্জিন অয়েল। নির্দিষ্ট সময় বা দূরত্ব পার হওয়ার পরেও ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন না করলে ইঞ্জিনের ভেতর ঘর্ষণ বৃদ্ধি পায়। এতে ইঞ্জিনের ক্ষমতা যেমন কমে, তেমনই পেট্রোলও বেশি টানে। তাই নিয়মিত ম্যানুয়াল দেখে ইঞ্জিন অয়েল পরীক্ষা ও বদল করা জরুরি।

৪. এয়ার ফিল্টার নোংরা হয়ে যাওয়া: ইঞ্জিনে পর্যাপ্ত বাতাস প্রবেশ করতে সাহায্য করে এয়ার ফিল্টার। দীর্ঘদিন এটি পরিষ্কার না করলে ধুলোবালি জমে বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। ফলে ইঞ্জিনের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি পায়। ধুলাবালিপূর্ণ রাস্তায় নিয়মিত বাইক চালালে মাঝেমধ্যেই ফিল্টার পরিষ্কার করা দরকার।

৫. টায়ারে বাতাসের কম চাপ: বাইকের টায়ারে ঠিকমতো হাওয়া না থাকলে রাস্তার সঙ্গে ঘর্ষণ বা প্রতিরোধ বেড়ে যায়। ফলে বাইক টানতে ইঞ্জিনকে বেশি শক্তি প্রয়োগ করতে হয় এবং পেট্রোল পোড়ে বেশি। তাই প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর টায়ারের প্রেশার অবশ্যই চেক করুন।

৬. সময়মতো সার্ভিসিং ও অন্যান্য সতর্কতা: ছোটোখাটো সমস্যা অবহেলা করলে তা বড় আকার নিতে পারে। স্পার্ক প্লাগের ত্রুটি, ব্রেক আটকে থাকা বা চেইনে সমস্যা থাকলে মাইলেজ কমবেই। এছাড়া অপ্রয়োজনে বাইক স্টার্ট করে দাঁড় করিয়ে রাখা এড়িয়ে চলুন। সব ঠিক থাকার পরেও যদি হুট করে মাইলেজ অনেক কমে যায়, তবে দেরি না করে অভিজ্ঞ মেকানিকের কাছে বাইক পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *