AI-এর প্রভাবে কমছে নতুন স্নাতকদের চাকরির সুযোগ, জেনেনিন কি পরিস্থিতি?

প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)। তবে এই প্রযুক্তিই কি এবার কেড়ে নিচ্ছে নতুন প্রজন্মের কর্মসংস্থানের সুযোগ? সম্প্রতি এই বিষয়ে বিশ্বনেতাদের চরম সতর্কবার্তা দিয়ে সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট থারমান শানমুগারত্নম জানিয়েছেন, এআই-এর ব্যাপক প্রভাবের কারণে চাকরির বাজারে নতুন স্নাতকদের চাহিদা দ্রুত কমে যাচ্ছে।

সোমবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এবং বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেন তিনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ঠিক কী বলেছেন সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট? সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে থারমান শানমুগারত্নম স্পষ্ট ভাষায় জানান, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এমন এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যার তাৎক্ষণিক সমাধান প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বের হওয়ার পর কর্মজীবনের প্রথম ধাপে বা এন্ট্রি-লেভেলে প্রবেশের সুযোগ দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে। অর্থাৎ, নতুন স্নাতকদের প্রথম চাকরি পাওয়ার রাস্তা আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে।

তাঁর মতে, যেসব শিল্পক্ষেত্র বা সেক্টরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব সবচেয়ে বেশি, সেখানে নতুনদের চাকরির সুযোগ হ্রাসের এই প্রবণতা অত্যন্ত স্পষ্ট। এআই-এর বিস্তার কেবল কাজের ধরনই বদলাচ্ছে না, বরং সামগ্রিক কর্মসংস্থানের মানচিত্রকেই ওলটপালট করে দিচ্ছে।

কেন বাড়ছে শঙ্কা? সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ শেষ করার পর নতুন প্রজন্ম বিভিন্ন এন্ট্রি-লেভেলের পদে চাকরি শুরু করেন। এই পদগুলিতে অভিজ্ঞ সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার সুবাদে তাঁরা ধীরে ধীরে পেশাদার দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান। কিন্তু বর্তমান যুগে এআই বা চ্যাটবটের মতো স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে অনেক প্রাথমিক কাজ চোখের পলকে করে ফেলা সম্ভব হচ্ছে। ফলে কোম্পানিগুলি আর নতুন কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন বোধ করছে না। যার জেরে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সরকারগুলির দ্রুত পদক্ষেপের দাবি: পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববাসীর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকারকে দ্রুত সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট। তাঁর মতে, এআই-এর কারণে কর্মসংস্থানে যে আমূল পরিবর্তন আসছে, তা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক স্তরে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে যাতে নতুন করে অর্থনৈতিক বা কর্মসংস্থানের বৈষম্য তৈরি না হয়, সে বিষয়েও আগাম সতর্কতা অবলম্বন করার বার্তা দিয়েছেন তিনি। প্রযুক্তির রথ এগোলেও এর জেরে যাতে তরুণ সমাজের কেরিয়ার অন্ধকারে না ডোবে, এখন সেটাই নীতিনির্ধারকদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *