পাহাড়ে পর্যটকদের জন্য দুর্দান্ত সারপ্রাইজ! চালু হল নতুন টয়ট্রেন ‘মুক্তধারা’, জানুন রুট ও সময়সূচি

পাহাড়ের রূপ-রস-গন্ধ উপভোগ করার পাশাপাশি ঐতিহাসিক ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের মর্যাদা রক্ষা করতে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR)-এর ঝুলিতে যুক্ত হল এক নতুন পালক। পাহাড়ে পর্যটনের নতুন দিশা দেখাতে এবং দর্শনার্থীদের এক অনন্য অভিজ্ঞতা উপহার দিতে চালু করা হল বিশেষ ডিজেল চালিত টয়ট্রেন পরিষেবা—’মুক্তধারা’ জয়রাইড।
রবিবার ঐতিহ্যবাহী কার্শিয়াং স্টেশন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সবুজ পতাকা দেখিয়ে এই পরিষেবার শুভ সূচনা করেন উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের (NFR) অ্যাডিশনাল জেনারেল ম্যানেজার (AGM) রমেশ কুমার।
নামকরণের নেপথ্যে বিশ্বকবির স্মৃতি
দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানান, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যকর্ম ও পাহাড়ের প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসাকে শ্রদ্ধা জানাতেই এই বিশেষ ট্রেনের নামকরণ করা হয়েছে ‘মুক্তধারা’।
তিনি বলেন, “কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বারবার দার্জিলিংয়ের পাহাড়ে এসেছেন এবং এখানকার রূপ-রসকে কালজয়ী সৃষ্টির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। পাহাড়ের ঝরনা, বিশেষ করে ‘পাগলাঝোড়া’-র প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাঁর লেখায় বারবার উঠে এসেছে। কবিগুরুর সেই সৃষ্টিশীল চেতনা এবং পাহাড়ের প্রকৃতির সঙ্গে টয়ট্রেনের মেলবন্ধন ঘটাতেই এই ট্রেনের নাম রাখা হয়েছে ‘মুক্তধারা’।”
নতুন সময়সূচি ও রুট
পাহাড়ের সৌন্দর্যকে একদম ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে উপভোগ করার জন্য বিশেষ সময়সূচি তৈরি করা হয়েছে:
রুট: ট্রেনটি প্রতিদিন কার্শিয়াং থেকে যাত্রা শুরু করে মহানদী যাবে এবং পুনরায় কার্শিয়াংয়ে ফিরে আসবে।
সময়: প্রতিদিন বিকেল ৩টে ১৫ মিনিটে কার্শিয়াং স্টেশন থেকে রওনা দিয়ে বিকেল ৫টার মধ্যে যাত্রা শেষ করবে।
সময়সীমা: ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের এই সংক্ষিপ্ত অথচ রোমাঞ্চকর সফরে পর্যটকরা পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ, ছায়াঘেরা পথচলতি দৃশ্য, সবুজ চা-বাগান এবং শতাব্দী প্রাচীন এই হেরিটেজ রেলের ইঞ্জিনিয়ারিং বিস্ময় উপভোগ করতে পারবেন।
পর্যটক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উন্মাদনা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রেলকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় অধিবাসী, হেরিটেজ অনুরাগী এবং বহু পর্যটক উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আশা, মহানদীর মতো মনোরম কিন্তু কিছুটা আড়ালে থাকা অঞ্চলকে এই রুটে যুক্ত করায় স্থানীয় অর্থনীতি এবং পর্যটন শিল্প উভয়ই নতুন গতি পাবে। বিকেলের মিঠে আলো-ছায়ায় পাহাড়ের রূপ দেখার এই নতুন সুযোগ নিঃসন্দেহে উত্তরবঙ্গের পর্যটনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।