মহালয়ার ভোরেই চোখের পলকে বদলে গেল পরিবেশ! কলকাতার হরকুটি রায় বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ির এই অলৌকিক মুহূর্ত দেখলে গায়ে কাঁটা দেবে

শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর ভোরের বাতাসে শিউলি ফুলের সুবাস জানান দিচ্ছে মা দুর্গার আগমন বার্তা। মহালয়ার পুণ্য প্রভাতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের উদাত্ত কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী শোনার সঙ্গেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। থিম আর আধুনিক আলোকসজ্জার যুগেও শতাব্দীপ্রাচীন বনেদি ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে দেবী আরাধনায় মেতে উঠল কলকাতার বনেদি ঐতিহ্যের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হরকুটি রায় বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার।

মহালয়ার পুণ্যলগ্নে এই বনেদি বাড়ির ঠাকুরদালানে দেখা গেল এক অনন্য ও আবেগঘন দৃশ্য, যা দেখতে সকাল থেকেই ভিড় জমিয়েছিলেন সাধারণ মানুষ ও ঐতিহ্যপ্রেমীরা।

শতবর্ষের স্মৃতি ও অমলিন সাবেকিয়ানা

কলকাতার প্রাচীন বনেদি পুজোগুলির মধ্যে হরকুটি রায় বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের পুজো নিজস্ব স্বকীয়তায় উজ্জ্বল:

  • মহালয়াতেই পুজোর আমেজ: অধিকাংশ মণ্ডপে ষষ্ঠী বা সপ্তমীতে আনুষ্ঠানিক পুজো শুরু হলেও, এই পরিবারে মহালয়ার সকাল থেকেই শুরু হয়ে যায় নির্দিষ্ট আচার-অনুষ্ঠান। ঘট স্থাপন, তর্পণ ও দেবীর চক্ষুদান পর্বের মাধ্যমে জেগে ওঠে গোটা পরিবেশ।

  • একচালা প্রতিমার রূপ: আধুনিকতার চাকচিক্য দূরে সরিয়ে রেখে আজও বংশপরম্পরায় খাঁটি মাটির গন্ধমাখা একচালার সনাতনী মূর্তিতেই মা দুর্গার আরাধনা হয় এই পরিবারে।

  • পারিবারিক মিলনমেলা: কর্মসূত্রে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা পরিবারের সদস্যরা এই বিশেষ দিনে ফিরে আসেন তাঁদের আদি ভিটেয়। শাঁখের আওয়াজ আর কাঁসর-ঘণ্টার বোলে গোটা বাড়ি যেন ফিরে যায় অতীত কলকাতার সোনালী দিনগুলিতে।

আধুনিকতার মাঝেও জীবন্ত ঐতিহ্য

যেখানে প্রতি বছর কলকাতার অলিগলিতে প্যান্ডেল ও প্রতিমার থিমে চমক দেওয়ার প্রতিযোগিতা চলে, সেখানে হরকুটি রায় বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ির এই নির্মল ঐতিহ্য আজও মানুষকে টানে প্রবলভাবে। কৃত্রিমতার ভিড়ে খাঁটি ভক্তিভাব আর পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া কড়া নিয়মকানুন কঠোরভাবে পালন করাই এই পুজোর মূল আকর্ষণ।

মহালয়ার ভোরে এই ঐতিহাসিক বাড়ির ঠাকুরদালানে দেবীর বন্দনা যেন আরও একবার স্পষ্ট করে দিল—বাঙালির পুজোর আসল প্রাণ নিহিত রয়েছে এই সমস্ত ঐতিহ্যবাহী বনেদি দালানের খাঁটি আবেগে। দেবীপক্ষের সূচনার সঙ্গে সঙ্গেই গোটা বাংলা মেতে উঠেছে মায়ের আগমনী সুরে।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *