মুহূর্তের মধ্যে গ্রাস করল হড়পা বান! সাক্ষাৎ মৃত্যুর মুখ থেকে কীভাবে ৩৬ জনকে ছিনিয়ে আনল নেপাল সেনা? দেখুন হাড়হিম দৃশ্য

পাহাড়ি নদীর বুক চিরে নেমে এল প্রলয়ঙ্কর জলস্রোত। চোখের পলকে বদলে গেল শান্ত নদীর রূপ। নেপালের বুড়ি গণ্ডকী নদীতে আচমকা ধেয়ে আসা হড়পা বানের তোড়ে নদীর চরে আটকে পড়লেন ৩৬ জন নিরীহ মানুষ। চারদিকে গর্জন করতে থাকা উত্তাল জলরাশি আর ক্রমেই তলিয়ে যেতে থাকা মাটি—সাক্ষাৎ মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন প্রত্যেকেই। ঠিক সেই চরম বিপদের মুখে দেবদূতের মতো হাজির হয়ে রুদ্ধশ্বাস অভিযানে ৩৬ জনকেই সুরক্ষিতভাবে উদ্ধার করল নেপাল সেনা।
সেনাবাহিনীর এই দুঃসাহসিক ও সময়োচিত পদক্ষেপে বড়সড় প্রাণহানির হাত থেকে রক্ষা পেলেন আটকে পড়া সমস্ত মানুষ।
নিমেষের মধ্যে জলস্ফীতি ও তৈরি হওয়া বিভীষিকা
স্থানীয় প্রশাসন ও সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, পার্বত্য অববাহিকায় অতিবৃষ্টির জেরে বুড়ি গণ্ডকী নদীতে আচমকাই জলস্তর বিপদসীমার অনেক ওপর দিয়ে বইতে শুরু করে:
-
অতর্কিতে হড়পা বান: নদীর তীরে দৈনন্দিন কাজ ও কৃষিকাজে ব্যস্ত থাকা মানুষজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে তীব্র স্রোত।
-
বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া মানুষ: চোখের নিমেষে নদী মধ্যবর্তী উঁচু চরগুলি বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়। জলের তোড় এতটাই তীব্র ছিল যে সাঁতরে বা স্থানীয় নৌকায় পাড়ে ফেরা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
-
আতঙ্কের প্রহর: সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নদীর জলস্তর বাড়তে থাকায় যে কোনো মুহূর্তে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কায় শুরু হয় তীব্র চিৎকার ও হাহাকার।
নেপাল সেনার বীরত্বপূর্ণ ও রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান
খবর পাওয়া মাত্রই কালবিলম্ব না করে বিশেষ উদ্ধারকারী দল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নেপাল সেনা।
-
প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই: পাহাড়ি নদীর তীব্র টান, প্রবল স্রোত এবং প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও বিশেষ দড়ি, স্পিডবোট এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করে অভিযানে নামেন জওয়ানরা।
-
এক এক করে ৩৬ জনের প্রাণরক্ষা: দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার হাড়হিম লড়াইয়ের পর অত্যন্ত নিখুঁত কৌশলে আটকে থাকা শিশু ও প্রবীণসহ মোট ৩৬ জনকেই নিরাপদে নদীর পাড়ে ফিরিয়ে আনেন সেনাকর্মীরা।
-
প্রাথমিক চিকিৎসা ও শুশ্রূষা: উদ্ধারের পরই আতঙ্কিত ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ তুলে দেওয়া হয়।
প্রশাসনের সতর্কতা ও নজরদারি
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা নেপাল সেনার এই বীরত্ব ও দায়িত্ববোধে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এদিকে পাহাড়ি এলাকায় নদীর জলস্তর এখনও বিপজ্জনক অবস্থায় থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নদী সংলগ্ন এলাকায় না যাওয়ার কড়া সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। সম্ভাব্য যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় নদীতীরবর্তী অঞ্চলগুলিতে সেনার বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।