পুজোয় দিঘা যাচ্ছেন? পর্যটকদের জন্য বিরাট চমক প্রশাসনের! সৈকত শহরে পা রাখার আগেই জেনে নিন বড় আপডেট

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো মানেই কেবল প্যান্ডেল হপিং নয়, বহু মানুষের কাছে এই ছুটি সমুদ্রের নোনা হাওয়ায় গা ভাসানোর সেরা সুযোগ। প্রতি বছরের মতো এবারও পুজোর দিনগুলিতে সৈকত শহর দিঘায় পর্যটকদের রেকর্ড ভিড় জমবে ধরে নিয়ে কোমর বেঁধে নামল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন ও দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ (DSDA)।
হোটেল বুকিং থেকে শুরু করে সমুদ্রসৈকত—পর্যটকদের সুরক্ষা, স্বাচ্ছন্দ্য এবং যানজটমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সাজো সাজো রব গোটা দিঘাজুড়ে।
সমুদ্রসৈকতে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ও বিশেষ নজরদারি
উৎসবের আবহে সমুদ্রস্নানে নেমে যাতে কোনো অপ্রীতিকর দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সৈকত চত্বরে নেওয়া হয়েছে বিশেষ সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা:
-
নুলিয়া ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী: ওল্ড দিঘা ও নিউ দিঘার প্রধান ঘাটগুলিতে মোতায়েন থাকছে প্রশিক্ষিত নুলিয়া ও সিভিল ডিফেন্সের বিশেষ দল। জোয়ারের সময় কাউকে গভীর জলে নামতে দেওয়া হবে না।
-
ড্রোন ও সিসিটিভি নজরদারি: সৈকত বরাবর বসানো হয়েছে অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা। ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার গতিবিধি খতিয়ে দেখতে আকাশপথে ড্রোন উড়িয়ে কড়া নজরদারি চালাবে পুলিশ।
-
ওয়াচ টাওয়ার থেকে নজরদারি: সৈকতের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলিতে অস্থায়ী ওয়াচ টাওয়ার বসিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
যানজট রুখতে কড়া ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ
পুজোর দিনগুলিতে দিঘার প্রধান রাস্তাগুলিতে গাড়ির চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে:
-
দিঘায় ঢোকার মুখে এবং বাইপাস সংলগ্ন এলাকাগুলিতে অস্থায়ী পার্কিং জোন তৈরি করা হচ্ছে।
-
নির্ধারিত এলাকা ছাড়া যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
-
শহরের প্রধান সংযোগস্থলগুলিতে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন থাকবে।
হোটেল ও পর্যটকদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা
উৎসবের সুযোগ নিয়ে পর্যটকদের থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় বা খাবারের চড়া দাম রুখতে হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকদের কড়া বার্তা দিয়েছে প্রশাসন। প্রতিটি হোটেলে অতিথি নিবন্ধনের নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটকদের সমুদ্রের বিপদসীমা নির্দেশকারী লাল পতাকা ও সাইনবোর্ড দেখে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।