পুলিশের খাঁচা থেকে মুক্তি পেতেই দিল্লি ছাড়লেন অভিজিত দীপকে! যন্তর মন্তরের আন্দোলন ফেলে হঠাৎ গ্রামে কেন? কারণ জানলে চোখে জল আসবে

দিল্লির উত্তাল রাজপথে যখন যন্তর মন্তর অভিযানের ডাকে টানটান উত্তেজনা, ঠিক তখনই ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) অন্দরে ঘটে গেল এক বড়সড় পটপরিবর্তন। দিল্লি পুলিশের প্রতিরোধমূলক আটক (Preventive Arrest) থেকে ছাড়া পাওয়ার পর সবাই ভেবেছিলেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে সরাসরি আন্দোলনে যোগ দিতে যন্তর মন্তরের দিকে এগোবেন। কিন্তু সব জল্পনায় জল ঢেলে দিল্লি ছেড়ে সোজা গ্রামের বাড়ির পথ ধরলেন তিনি।
হঠাৎ কেন আন্দোলনের ময়দান ছেড়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন তিনি? সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) আবেগঘন পোস্ট করে নিজেই সেই মর্মান্তিক কারণ প্রকাশ্যে এনেছেন খোদ সিজেপি প্রধান।
কী কারণে আন্দোলনের মঞ্চ ছেড়ে গ্রামে ফিরছেন অভিজিত?
অভিজিত দীপকে এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন, চরম পারিবারিক শোকের কারণেই তিনি তড়িঘড়ি গ্রামে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। শনিবারই প্রয়াত হয়েছেন তাঁর ঠাকুমা।
-
পৈতৃক ভিটেয় শোকের ছায়া: মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলার সন্তুক পিম্পরি গ্রামে দীপকের পৈতৃক বাড়ি। সেখানেই থাকতেন তাঁর বৃদ্ধা ঠাকুমা।
-
বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা: বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি এবং বয়সজনিত কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়।
-
পরিবারের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত: জীবনের এই কঠিন মুহূর্তে শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে দাঁড়াতেই সমস্ত রাজনৈতিক কর্মসূচি সাময়িকভাবে পিছিয়ে রেখে গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন দীপকে।
বিমানেই নাটকীয় আটক ও রবিবার সকালে মুক্তি
উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে মুম্বই থেকে বিমানযোগে দিল্লিতে এসেছিলেন সিজেপির তিন শীর্ষ নেতা—অভিজিত দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। তবে দিল্লির মাটিতে পা রাখার আগেই নাটকীয়ভাবে তাঁদের বিমানের ভেতর থেকেই প্রতিরোধমূলক আটক করে দিল্লি পুলিশ।
রবিবার সকালে তিন নেতাকেই ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করানো হলে তাঁদের মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
“ভয় দেখিয়ে আমাদের রোখা যাবে না”
গ্রামের পথে রওনা হলেও আন্দোলনের পথ থেকে যে তাঁরা এক চুলও সরছেন না, তা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন অভিজিত দীপকে। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি সাফ লিখেছেন:
“সিজেপি কোনোভাবেই পিছু হটবে না। ভয় দেখিয়ে বা আটকে রেখে আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না।”
একই সঙ্গে তিনি জানান, তাঁর অবর্তমানে সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা খুব শীঘ্রই দিল্লির বুকে একটি জরুরি সাংবাদিক বৈঠক করবেন এবং পরবর্তী কর্মসূচির রূপরেখা স্পষ্ট করবেন। পারিবারিক শোকের আবহে দীপকের এই সাময়িক প্রস্থান হলেও রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে সিজেপির আন্দোলন ঘিরে পারদ এখনও চড়ছে।