মাঝমাঠেই প্রতিপক্ষের চুল টেনে লাল কার্ড! ভিনিসিয়ুসের চরম কাণ্ডে মাথায় হাত রিয়ালের, মিস করবেন এল ক্লাসিকো?

লা লিগার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণের দায়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হলো রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলীয় মহাতারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে। ভিয়ারিয়ালের বিরুদ্ধে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে মেজাজ হারিয়ে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের চুল টেনে বসেন এই তরুণ উইঙ্গার। রেফারি এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেন।
ভিনিসিয়ুসের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে রিয়াল মাদ্রিদ কেবল ম্যাচেই চাপে পড়েনি, আসন্ন মহারণ ‘এল ক্লাসিকো’তে তাঁর খেলা নিয়েও গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মাঠে ঠিক কী ঘটেছিল?
ভিয়ারিয়ালের বিরুদ্ধে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বল দখলের লড়াইকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে:
-
বচসা ও সংঘর্ষ: প্রতিপক্ষের রক্ষণে বল নিয়ে ঢোকার সময় ভিয়ারিয়ালের ডিফেন্ডারের সঙ্গে তীব্র ট্যাকলে জড়িয়ে পড়েন ভিনিসিয়ুস। রেফারি ফাউলের বাঁশি বাজানোর পর দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়।
-
মেজাজ হারালেন ভিনি: উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের এক পর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের চুল শক্ত করে টেনে ধরেন তিনি।
-
সরাসরি লাল কার্ড: বিষয়টি লাইন্সম্যান ও রেফারির নজরে আসতেই রেফারি কোনো সতর্কবার্তা না দিয়ে সোজা পকেট থেকে লাল কার্ড বের করেন। ভিএআর (VAR) পর্যালোচনার পরও সিদ্ধান্তের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
বড় শাস্তির মুখে ব্রাজিলীয় তারকা, ক্লাসিকো মিসের ঝুঁকি
লা লিগার কঠোর শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, মাঠে এই ধরনের হিংসাত্মক আচরণকে ‘ভায়োলেন্ট কন্ডাক্ট’ হিসেবে গণ্য করা হয়। সাধারণত এমন অপরাধে একজন ফুটবলারকে ন্যূনতম দুই থেকে তিন ম্যাচের জন্য নির্বাসিত করা হতে পারে।
যদি লা লিগা শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি তাঁকে একাধিক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেয়, তবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিরুদ্ধে আসন্ন মহাগুরুত্বপূর্ণ ‘এল ক্লাসিকো’ ম্যাচে মাঠে নামা হবে না ভিনিসিয়ুসের।
চাপে রিয়াল মাদ্রিদ শিবির
ম্যাচের পর রিয়াল কোচ কার্লো আনচেলোত্তি দলের অন্যতম সেরা অস্ত্রের এমন আচরণে স্পষ্টতই অসন্তুষ্ট। লিগ টেবিলের শীর্ষস্থানের লড়াইয়ে ভিনিসিয়ুসের মতো গুরুত্বপূর্ণ তারকার এমন নির্বাসন দলের আক্রমণভাগকে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে। ক্লাবের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন জানানোর কথা ভাবা হলেও, মাঠে ক্যামেরায় ধরা পড়া স্পষ্ট ফুটেজের কারণে শাস্তির মাত্রা কতটা কমবে, তা নিয়ে সন্দিহান ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।