ফ্লাইট বুকিংয়ের পুরোনো ট্রিক ব্যর্থ! ২০২৭ সালের ভাড়াও চড়া, পকেটে টান পড়ার আসল কারণ ফাঁস

এতদিন সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা ছিল, ফ্লাইটের যাত্রার কয়েক মাস আগেভাগে টিকিট কাটলে হয়তো অনেকটাই সস্তায় ভ্রমণ করা সম্ভব। কিন্তু ভারতীয় বিমান চলাচলের বর্তমান চিত্রে সেই পুরোনো নিয়ম সম্পূর্ণ ওলটপালট হয়ে গিয়েছে। এখন কয়েক মাস আগে তো বটেই, এমনকি আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য দিল্লি-মুম্বই রুটের বিমানের আগাম টিকিট বুক করতে গেলেও গুণতে হচ্ছে আকাশছোঁয়া টাকা।

সাম্প্রতিক বাজার দর অনুযায়ী, কাল-পরশুর জন্য দিল্লি থেকে মুম্বইগামী ফ্লাইটের ইকোনমি ক্লাসের টিকিট আকাসা এয়ারে প্রায় ৬,২০০ টাকা, ইন্ডিগোতে ৬,৫০০ টাকা এবং এয়ার ইন্ডিয়াতে ৬,৯০০ টাকার কাছাকাছি বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের নির্ধারিত ফ্লাইটগুলোর টিকিটের দামও প্রায় একই স্তরে অবস্থান করছে! অথচ আগেভাগে অগ্রিম বুকিং করলে এই রুটে ৩,৮০০ টাকার মধ্যেই টিকিট মেলানো সম্ভব হতো।

কেন আগুন বিমানে টিকিটের দামে?

বিমান পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে কাজ করছে বেশ কয়েকটি বড় কারণ:

  • ফ্লাইট ও আসনের চরম ঘাটতি: দেশের ব্যস্ততম রুটগুলোতে যাত্রীদের চাহিদার তুলনায় আসন সংখ্যা বা ফ্লাইটের সংখ্যা অনেক কম। ইন্ডিগো সম্প্রতি তাদের ফ্লাইট সংখ্যা কিছুটা কমিয়েছে এবং এয়ার ইন্ডিয়াও নতুন ফ্লাইট চালু করার ক্ষেত্রে ধীর গতিতে এগোচ্ছে। ফলে অতিরিক্ত ছাড় দিয়ে টিকিট বিক্রি করার কোনো প্রয়োজনই মনে করছে না এয়ারলাইন সংস্থাগুলো।

  • প্রতিযোগিতার অভাব ও বাজার সংকোচন: জেট এয়ারওয়েজ এবং গোফার্স্টের মতো বড় সংস্থাগুলো দেউলিয়া হয়ে ব্যবসা বন্ধ করায় এবং বেশ কিছু এয়ারলাইন্সের একত্রীকরণের ফলে ভারতের এভিয়েশন বাজারে এখন অপশন অনেকটাই সীমিত। এর সুবিধা নিচ্ছে বড় হাতগুলো।

  • বিমান জ্বালানির (ATF) অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি: আন্তর্জাতিক বাজারে বিমানের জ্বালানি বা জেট ফুয়েলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার দরুন অপারেশনাল খরচ সামলাতে এয়ারলাইন্সগুলো টিকিটের মূল ভাড়া ও ফুয়েল সার্চার্জ একধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে।

যাত্রীদের জন্য পরামর্শ

বর্তমান পরিস্থিতিতে কেবল আগেভাগে বুক করলেই যে ছাড় মিলবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই টিকিট কাটার আগে তাড়াহুড়ো না করে একাধিক তারিখ, বিভিন্ন এয়ারলাইন্স এবং আলাদা অ্যাপের মাধ্যমে ভাড়া তুলনা করে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *