হাতী ও ষাঁড়ের জোড়া মুখওয়ালা রহস্যময় মূর্তি! বিজয়নগর আমলের ঐতিহাসিক জলগণ্ডেশ্বর মন্দিরের আসল রহস্য জানেন কি?

রবিবার তামিলনাড়ু সফরে গিয়ে ভেলোরের ঐতিহাসিক জলগণ্ডেশ্বরার মন্দিরে পুজো দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকর এবং মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়কে সঙ্গে নিয়ে এই প্রাচীন মন্দিরে প্রার্থনা করার পর থেকেই দেশজুড়ে এই মন্দিরটির ইতিহাস ও স্থাপত্য নিয়ে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের ছবি সামনে আসার পরেই ইন্টারনেটে হু হু করে বাড়ছে এই মন্দির সংক্রান্ত তথ্য খোঁজার হিড়িক।
তামিলনাড়ুর ভেলোর দুর্গের ঠিক ভেতরে অবস্থিত এই জলগণ্ডেশ্বর মন্দিরটি ষোড়শ শতাব্দীতে বিজয়নগর সাম্রাজ্যের আমলে নির্মিত বলে মনে করা হয়। ভগবান শিবকে উৎসর্গীকৃত এই মন্দিরটি তার অপূর্ব দ্রাবিড় স্থাপত্যের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। মন্দিরটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, এটি ‘আগাজি’ নামক একটি বিশাল প্রাকৃতিক পুকুরের মাঝখানে এমনভাবে অবস্থিত, যা জলের পরিধি দিয়ে সম্পূর্ণ ঘেরা রয়েছে।
মন্দিরের ভেতরে রয়েছে এক দারুণ স্থাপত্যের নিদর্শন। এখানকার বিখ্যাত কল্যাণ মণ্ডপম বা বিবাহ কক্ষে একটি বিশেষ স্তম্ভ বা মূর্তি রয়েছে, যার এক দেহের মধ্যে হাতি ও ষাঁড়ের দুটি ভিন্ন মুখ চমৎকারভাবে খোদাই করা রয়েছে। এছাড়া মূল শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠার সময় যে ‘জল গঙ্গা গৌরী তীর্থম’ নামক প্রাচীন কুয়ো থেকে জল আনা হয়েছিল, তাতে আজও একটি প্রাকৃতিক ঝরনা রয়েছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
শিবের পাশাপাশি এই মন্দিরে দেবী পার্বতী, বিষ্ণু, লক্ষ্মী, ব্রহ্মা ও সরস্বতীর মূর্তিও পুজিত হয়। শীতকাল অর্থাৎ নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে এই মন্দির ভ্রমণের আদর্শ সময়। চেন্নাই বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১৩৫ কিমি দূরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক দুর্গে ট্রেন বা সড়কপথে খুব সহজেই পৌঁছানো যায়। প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই মন্দিরে প্রার্থনা করার পর, দক্ষিণ ভারতের এই প্রাচীন ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থানটি এখন ফের নতুন করে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।