এবার সোজা সুপ্রিম কোর্টে বিরোধীরা! জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে একজোট ইন্ডিয়া জোট ও সিজেপি

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে জাতীয় রাজনীতির সংঘাত এবার এক নতুন মোড় নিল। দিল্লির যন্তরমন্তরে লাগাতার বিক্ষোভ ও ধরপাকড়ের উত্তাপ স্তিমিত হওয়ার আগেই আরও কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটছে বিরোধীরা। এবার এই ইস্যুতে সরাসরি দেশের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিল বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট এবং ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজপথের প্রতিবাদের পাশাপাশি এবার সাংবিধানিক ও আইনি লড়াইকে একযোগে তীব্র করার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে বিরোধী শিবির।
সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি: কী অভিযোগ বিরোধীদের?
বিরোধী নেতৃত্ব ও আন্দোলনকারী সংগঠনের যৌথ সূত্রে জানা গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ আবেদন দাখিল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাঁদের মূল দাবি ও অভিযোগগুলি হলো:
-
স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার অভাব: নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক ও নিরপেক্ষ সংস্থা হলেও বর্তমান কমিশনারের অধীনে তা কার্যত শাসকদলের স্বার্থে কাজ করছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ।
-
ভোটার তালিকার অসঙ্গতি: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়ার ঘটনা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলির ওপর অবিলম্বে শীর্ষ আদালতের নজরদারিতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হবে।
-
কমিশনারের অপসারণ বা পদত্যাগ: সাংবিধানিক নিয়ম মেনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে আইনি পদক্ষেপের আর্জি জানানো হবে।
দেশজুড়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
শীর্ষ আদালতে আবেদন জানানোর পাশাপাশি রাজপথের আন্দোলনও যে থামছে না, তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। রাজধানী দিল্লিতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন ছাত্র-যুব সংগঠন, রাজনৈতিক দলের সাংসদ এবং সিজেপি কর্মীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইন্ডিয়া জোট।
নেতৃত্বের সাফ হুঁশিয়ারি, রাজধানীর স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে ১৪৪ বা ১৩৩ ধারা জারি করে কিংবা ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রেখে এই গণআন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না। খুব শীঘ্রই দিল্লিতে আরও বড় মাপের যৌথ গণবিক্ষোভের ডাক দেওয়া হবে, যার ঢেউ আছড়ে পড়বে দেশের প্রতিটি রাজ্যেও।
দিল্লির পুলিশি ধরপাকড়, বিরোধী নেতৃত্বের এককাট্টা হওয়া এবং এবার খোদ সুপ্রিম কোর্টের দরজায় কড়া নাড়ার প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে এই রাজনৈতিক সংঘাত জাতীয় স্তরে এক চরম আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের রূপ নিচ্ছে।