বিয়ের পর পদবি বদলাতে গিয়ে আর ঘুরতে হবে না! আধার সংশোধনে নতুন সহজ নিয়ম আনল কেন্দ্র

দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য আধার কার্ড আজ অন্যতম প্রধান পরিচয়পত্র। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া—সবক্ষেত্রেই সঠিক তথ্যের আধার কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বিয়ের পর অনেক মহিলাই পদবি পরিবর্তন করতে গিয়ে জটিল প্রক্রিয়ার মুখে পড়েন। পাশাপাশি নামের বানান সামান্য ভুল থাকলেও পড়তে হয় নানা বিপাকে। এবার সাধারণ মানুষের এই দীর্ঘদিনের হয়রানি কমাতে নাম ও পদবি সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বড়সড় পরিবর্তন আনল কর্তৃপক্ষ (UIDAI)।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, অযথা জটিল আইনি নথির চক্কর ছাড়াই অনেক সহজে ও দ্রুত আধার কার্ডের নাম ও পদবি সংশোধন করা সম্ভব হবে।
বিয়ের পর পদবি বদল: কী নতুন সুবিধা মিলল?
আগে বিয়ের পর আধার কার্ডে পদবি বা স্বামীর নাম যুক্ত করতে গিয়ে একাধিক সরকারি দফতরে ঘুরতে হতো। নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রক্রিয়াটিকে অনেক বেশি সরল করা হয়েছে:
-
ম্যারেজ সার্টিফিকেট (Marriage Certificate): যদি বিয়ের বৈধ শংসাপত্র থাকে, তবে কেবল সেই একটি নথি আপলোড করেই অনলাইনেই পদবি পরিবর্তন করা যাবে।
-
বিকল্প নথি: যাঁদের ম্যারেজ সার্টিফিকেট নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে গেজেট নোটিফিকেশন অথবা নির্দিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিক (গেজেটেড অফিসার) দ্বারা প্রত্যয়িত নির্ধারিত ফর্ম জমা দিলেই নাম বা পদবি সংশোধনের আবেদন গ্রহণ করা হবে।
নামের ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম
অনেকেরই আধারে ছোটখাটো বানানের ভুল বা নামের অক্ষরের অসঙ্গতি থাকে। নতুন গাইডলাইনে এই ধরনের ছোটখাটো ত্রুটি সংশোধনকে অত্যন্ত সহজ করা হয়েছে:
-
বানানের সামান্য ত্রুটি: নামের ক্ষেত্রে ছোটখাটো বানানের ভুল সংশোধনের জন্য পাসপোর্ট, প্যান কার্ড, ভোটার কার্ড বা শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্রের মতো বৈধ পরিচয়পত্র জমা দিয়ে দ্রুত আপডেট করা যাবে।
-
নির্দিষ্ট সীমার কড়াকড়ি: মনে রাখবেন, নিয়মানুযায়ী জীবনে নির্দিষ্ট বারের বেশি আধারে নাম পরিবর্তন করা যায় না। তাই সংশোধনের আবেদন করার সময় অত্যন্ত সতর্কভাবে সঠিক তথ্য প্রদান করতে হবে। অতিরিক্ত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমোদন ও গেজেট বিজ্ঞপ্তির প্রয়োজন পড়ে।
কীভাবে ঘরে বসে করবেন এই আবেদন?
১. আধার কর্তৃপক্ষের অফিশিয়াল পোর্টাল (myaadhaar.uidai.gov.in) অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে প্রবেশ করতে হবে।
২. ওটিপি (OTP)-র মাধ্যমে নিজের অ্যাকাউন্টে লগ-ইন করুন।
৩. ‘নেম আপডেট’ বা নাম সংশোধনের অপশন বেছে নিয়ে সঠিক তথ্য পূরণ করুন।
৪. প্রয়োজনীয় বৈধ নথির স্পষ্ট স্ক্যান কপি আপলোড করে নির্ধারিত নামমাত্র ফি জমা দিন।
৫. আবেদন জমা পড়ার পর একটি ইউআরএন (URN) নম্বর মিলবে, যা দিয়ে অনলাইনেই স্ট্যাটাস ট্র্যাক করা যাবে।
যাঁরা অনলাইনে অভ্যস্ত নন, তাঁরা সরাসরি নিকটবর্তী আধার সেবা কেন্দ্র বা পোস্ট অফিসে গিয়েও আসল নথিপত্র দেখিয়ে এই সংশোধনের কাজ করিয়ে নিতে পারেন। তথ্যগত ত্রুটি এড়াতে এবং ভবিষ্যতে সরকারি বা ব্যাঙ্কিং পরিষেবা সচল রাখতে দ্রুত আধার কার্ডের ভুল তথ্য সংশোধন করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।