হলিউডে দুই মহাতারকার আসল ‘মহাযুদ্ধ’! গালাগালি থেকে হাতাহাতি—সিলভেস্টার স্ট্যালোনের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি

হলিউডের পর্দা কাঁপানো দুই মহাতারকা—সিলভেস্টার স্ট্যালোন ও আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার। আশির দশক থেকে বড়পর্দায় তাঁদের পেশিবহুল শরীরের গর্জন দেখে রোমাঞ্চিত হয়েছেন দুনিয়ার কোটি কোটি দর্শক। কিন্তু পর্দার এই রোমহর্ষক লড়াই যে কেবল চিত্রনাট্যের পাতায় বা ক্যামেরার সামনে সীমাবদ্ধ ছিল না, তা এবার সরাসরি ফাঁস করলেন খোদ ‘রকি’ খ্যাত অভিনেতা সিলভেস্টার স্ট্যালোন। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আর্নল্ডের সঙ্গে তাঁর তীব্র শত্রুতা ও রেষারেষির আসল সত্যিটা প্রকাশ্যে এনে কার্যত শোরগোল ফেলে দিয়েছেন তিনি।

অনেকেই ভাবতেন, এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়তো নিছকই প্রচারের কৌশল বা লোকদেখানো চমক। তবে স্ট্যালোন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, প্রচার নয়, বাস্তবে একে অপরের প্রতি তাঁদের ঘৃণা ছিল মারাত্মক।

ফুলদানি ছুড়ে মারামারি: যেখান থেকে শুরু ‘মহাযুদ্ধ’

এই তিক্ততার সূত্রপাত ১৯৭৭ সালের গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের মঞ্চে। সে বছর সাড়া জাগানো ছবি ‘রকি’-র জন্য ব্যক্তিগত ক্যাটাগরিতে সেরা অভিনেতার মনোনয়ন পেলেও শেষ পর্যন্ত ট্রফি হাতছাড়া হয় স্ট্যালোনের। সেই সময় তাঁদের ব্যক্তিগত পরিচয় তেমন ছিল না বললেই চলে। কিন্তু স্ট্যালোনের ট্রফি না পাওয়া দেখে দর্শকাসনে বসে আর্নল্ড নাকি প্রকাশ্যেই ব্যঙ্গাত্মক উল্লাস প্রকাশ করেন! এতে চরম অপমানিত ও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন স্ট্যালোন। মেজাজ হারিয়ে টেবিলের ওপর রাখা বিশাল এক ফুলের টব তুলে সোজা ছুড়ে মারেন আর্নল্ডের দিকে! আর সেই ঘটনাই জ্বালিয়ে দেয় দীর্ঘ ২০ বছরের রক্তক্ষয়ী শত্রুতার আগুন।

“আমরা একে অপরের রক্তপিপাসু হয়ে উঠেছিলাম”

আট ও নয়ের দশকে যখন দুই তারকাই খ্যাতির শীর্ষে, তখন একই ধরনের বড় বাজেটের অ্যাকশন চরিত্রের জন্য তাঁদের মধ্যে চলত চরম টক্কর। কে বেশি পেশিবহুল, কার ছবির আয় বেশি—এই নিয়ে প্রতি পদক্ষেপে চলত তীব্র রেষারেষি। সেই সময়ের অন্ধ আক্রোশের কথা মনে করে স্ট্যালোন তুলনা টেনেছেন শিল্পপতি ইলন মাস্কের সঙ্গেও। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য:

“আর্নল্ডের সঙ্গে আমার লড়াইটা কোনো মজার ব্যাপার ছিল না, ওটা ছিল একেবারে জীবন-মরণের বিষয়। আমরা রীতিমতো একে অপরের রক্তপিপাসু হয়ে উঠেছিলাম। আমাদের সংঘাতটা ছিল ঠিক রোমান কলোসিয়ামের গ্ল্যাডিয়েটরদের মতো।”

এমনকি ২০২২ সালের এক সাক্ষাৎকারেও স্ট্যালোন স্মৃতিচারণ করে বলেছিলেন, পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছিল যে তাঁরা একে অন্যকে একই ছায়াপথেও সহ্য করতে পারতেন না। মুখ দেখাদেখি বন্ধ তো ছিলই, আড়ালে চলত লাগামহীন কটূক্তি।

কীভাবে গলল সম্পর্কের বরফ?

অবশেষে নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এসে মিটে যায় এই চরম তিক্ততা। শত্রুতা ভুলে দুই তারকা একসঙ্গে ব্যবসায় নামেন। ১৯৯১ সালে ব্রুস উইলিস ও ডেমি মুরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাঁরা চালু করেন আন্তর্জাতিক রেস্তোরাঁ চেইন ‘প্ল্যানেট হলিউড’। এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমেই দীর্ঘদিনের জমানো বরফ গলে জল হয়।

পরবর্তী সময়ে আর্নল্ড নিজেও একটি বেতার সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছিলেন, তাঁরা অতীতে সত্যি একে অপরকে চরম ঘৃণা করতেন, কিন্তু একসঙ্গে কাজ করতে গিয়েই ভুল বোঝাবুঝি মুছে যায়। এরপর বন্ধুত্বের গভীরতা এতটাই বাড়ে যে পরবর্তীতে জনপ্রিয় অ্যাকশন ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘দ্য এক্সপেন্ডেবলস’-এর একাধিক ছবিতে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অভিনয় করেন দুই তারকা। এমনকি ২০২৩ সালের একটি তথ্যচিত্রে স্ট্যালোন অকপটে স্বীকার করেন—সেই জমানায় অ্যাকশন দুনিয়ার আসল রাজা ছিলেন আর্নল্ডই।

চরম শত্রু থেকে পরম বন্ধু হয়ে ওঠার এই অবিস্মরণীয় রূপান্তর আজ হলিউডের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অধ্যায় হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *