‘বিয়ের সামান্য টানাপোড়েনেই ফৌজদারি মামলা নয়!’ সম্পর্ক ভাঙার প্রবণতা নিয়ে কড়া বার্তা আদালতের—শোরগোল আইনি মহলে

দাম্পত্য জীবনের সামান্য টানাপোড়েন কিংবা বিয়ে ভেঙে যাওয়ার মতো ঘটনাকে সবসময় অন্ধভাবে ফৌজদারি বা অপরাধমূলক মামলায় রূপান্তরিত করা উচিত নয়। এর ফলে আদতে ‘বিবাহ’ নামক পবিত্র সামাজিক প্রতিষ্ঠানটিই চরম ক্ষতির মুখে পড়ছে। সম্প্রতি স্বামী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি পণের মামলার এফআইআর খারিজ করে এমনই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ পেশ করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। ডেইলিআন্টের পাঠকদের জন্য রইল এই রায়ের বিশদ বিবরণ।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি চন্দ্র ধারি সিং এবং বিচারপতি তরুণ সাক্সেনার সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ আগ্রার হরি পর্বত থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং যৌতুক প্রতিরোধ আইনের অধীনে দায়ের হওয়া একটি এফআইআর সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন। গৌরব জৈন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দায়ের করা রিট পিটিশন মঞ্জুর করেই এই নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আদালত সূত্রে মামলার বিবরণে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ১২ নভেম্বর গৌরব জৈনের সঙ্গে ওই তরুণীর বিবাহ হয়েছিল। বিয়ের পর দম্পতি মাত্র আড়াই মাস একসঙ্গে সংসার করেন। এর পর ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি স্ত্রী স্বেচ্ছায় শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান। এর ঠিক তিন মাস পর, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৩ মে স্বামী পক্ষের তরফে দেওয়ানি আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার মাত্র দু’মাস বাদে, ৩০ জুন স্ত্রী থানায় গিয়ে স্বামী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে পণের দাবি, শারীরিক নির্যাতন, স্ত্রীধন আটকে রাখা, প্রাণনাশের হুমকি এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টার মতো অত্যন্ত গুরুতর একাধিক অভিযোগ তুলে এফআইআর দায়ের করেন।

মামলার এই পুরো টাইমলাইন এবং নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, সামান্য মানসিক দূরত্ব বা দাম্পত্য কলহকে হাতিয়ার করে এভাবে চটজলদি ফৌজদারি মামলা ঠুকে দেওয়ার প্রবণতা সামাজিক কাঠামোর পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই ধরনের মনগড়া ও আক্রোশমূলক আইনি পদক্ষেপ পবিত্র বিবাহ প্রতিষ্ঠানকেই তিলে তিলে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আদালতের এই জোরালো ও সময়োপযোগী পর্যবেক্ষণের পর আইনি মহলেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

Pratik Saha
  • Pratik Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *