‘মাছি মারতে কামান দাগবেন না!’ দিল্লির কড়া বিধিনিষেধ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের তোপের মুখে পুলিশ

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) যন্তর মন্তর অভিযান ঘিরে দিল্লিতে দিল্লি পুলিশের মাত্রাতিরিক্ত কড়াকড়ি ও দমনপীড়নের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রতিবাদ আটকাতে ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া, দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা এবং সাধারণ মানুষের অবাধ চলাচলে বাধা দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করেছে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ প্রশাসনকে সতর্ক করে স্পষ্ট জানিয়েছে—পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ‘মাছি মারতে হাতুড়ি ব্যবহার করা যায় না’ (hammer to kill a fly)।

সুপ্রিম কোর্টের মূল পর্যবেক্ষণ ও কড়া নির্দেশ:

  • মেট্রো ও ট্রেন বন্ধে নিষেধাজ্ঞা: শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, রাজধানীতে মেট্রো পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা যাবে না। সাধারণ নাগরিক, পড়ুয়া, অফিসযাত্রী এবং বয়স্কদের চরম ভোগান্তির মধ্যে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

  • অনুপাতিক ক্ষমতার নীতি (Principle of Proportionality): প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় জানান, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা পুলিশের দায়িত্ব হলেও পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধ বজায় রাখতে হবে। যতটা প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই নিয়ন্ত্রণ করা উচিত, তার বেশি নয়।

  • যান চলাচলে অবাধ গতি: রাজধানীর রাস্তায় যেখানে-সেখানে ব্যারিকেড দিয়ে সাধারণ মানুষের যাতায়াত রুদ্ধ না করে দ্রুত স্পষ্ট ট্রাফিক নির্দেশিকা জারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • বিকল্প আন্দোলনের জায়গা: শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিক্ষোভ দেখানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে পর্যাপ্ত সুবিধাযুক্ত বিকল্প নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করার পরামর্শ দিয়েছে আদালত।

নির্বাচন কমিশনের এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে যে গণ-বিক্ষোভের সূচনা হয়েছে, তা রুখতে ইন্টারনেট বন্ধ থেকে শুরু করে একাধিক বিধিনিষেধ জারি করেছিল প্রশাসন। তবে শীর্ষ আদালতের এই কড়া বার্তার পর পুলিশ প্রশাসনকে তাদের আরোপিত কড়া নীতি পুনর্বিবেচনা করতে হচ্ছে। সাধারণ নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও পরিষেবা নিশ্চিত করতেই এই তাৎপর্যপূর্ণ হস্তক্ষেপ আদালতের।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *