ফের নেপালে হড়পা বান! ভোররাতে হড়পা বানের ভয়ঙ্কর তাণ্ডব, দেখুন ভিডিও

বিগত বিধ্বংসী বিপর্যয়ের ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই ফের মারাত্মক দুর্যোগের মুখে প্রতিবেশী দেশ নেপাল। রবিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই নেপালের গোর্খা জেলায় নেমে এল ভয়াবহ হড়পা বান। পাহাড়ি ঢল আর পাথর-কাদার মিশেল কালো জলের প্রচণ্ড তোড়ে চোখের নিমেষে ভেসে গেল একের পর এক বাড়িঘর ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেতু। ঘটনার পর থেকেই বুড়ি গণ্ডকী নদীর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল ও নদীপাড়ের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
ভোররাতেই তাণ্ডব, নদীপাড়ে রেড অ্যালার্ট: নেপালের ‘ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি’ (NDRRMA) সূত্রে জানা গেছে, চুমনুব্রি গ্রামীণ পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে এই পাহাড়ি ঢলের উৎপত্তি। শনিবার রাতে পাহাড়ে নতুন করে ধস নামার ফলে বুড়ি গণ্ডকী নদীতে একটি কৃত্রিম কিংবা অস্থায়ী হ্রদের সৃষ্টি হয়েছিল। রবিবার ভোর ৪টে ৩৫ মিনিট নাগাদ সেই বাঁধ ভেঙে আচমকাই নিচে নেমে আসে সুবিশাল জলের তোড়।
গোর্খার চিফ ডিস্ট্রিক্ট অফিসার ধর্মেন্দ্রকুমার মিশ্রা জানিয়েছেন, ভোররাতেই বিরাট আকারের হড়পা বান আছড়ে পড়ে। বর্তমানে গোর্খা, ধাদিং এবং চিতোয়ান— এই তিন জেলার নদী-তীরবর্তী এলাকায় চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে বুড়ি গণ্ডকী নদীর গর্জনশীল জলরাশি। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা হতাহতের আনুষ্ঠানিক খবর না মিললেও বিশাল ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Nepal’s National Disaster Risk Reduction and Management Authority tweets, “A large flood is coming from Chumanuwmi Rural Municipality-6 of the Budhi Gandaki River, so until the flood passes, do not go near the river up to Trishuli Dobhan. Stay in high places.”
(Source: Nepal Army)
— ANI (@ANI) October 11, 2026
কাটেনি আগের ক্ষতের দাগ: উল্লেখ্য, গত ২৬ অগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের ভোটকোশি নদীতে একইভাবে ভয়াবহ হড়পা বান এসেছিল। সেই মর্মান্তিক বিপর্যয়ে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয় এবং গৃহহীন হয়ে পড়েন হাজার হাজার মানুষ, যাঁদের অনেকেই আজও নিখোঁজ। সেই ভয়ঙ্কর ট্র্যাজেডির ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই ফের এই নতুন দুর্যোগ নেপালের জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উদ্ধারকারী দল উদ্ধারকাজ ও নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।