উচ্চশিক্ষিত হলেই কি চাকরি পেতে দেরি হয়? বেকারের খাতায় নাম লেখানোর এই কঠিন সত্য জানলে চোখ কপালে উঠবে!

আজকের প্রতিযোগিতামূলক যুগে প্রতিটি অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর মূল লক্ষ্য থাকে যতদূর সম্ভব উচ্চশিক্ষা অর্জন করা। কিন্তু একটি অত্যন্ত বাস্তব ও বেদনাদায়ক সত্য হলো, শিক্ষাগত যোগ্যতা যত বেশি হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাওয়ার জন্য অপেক্ষার সময়কালও তত দীর্ঘ হচ্ছে। গ্র্যাজুয়েশন, মাস্টার্স কিংবা পিএইচডি ডিগ্রি হাতে পাওয়ার পরেও দীর্ঘদিন ধরে বেকার ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে দেশের লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীকে। উচ্চশিক্ষিত হয়েও কেন এই কর্মহীনতার ফাঁদে পড়তে হচ্ছে শিক্ষিত সমাজকে, তা নিয়ে এখন শুরু হয়েছে গভীর পর্যালোচনা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের প্রধান কারণ হলো আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা এবং বর্তমান চাকরির বাজারের চাহিদার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ। স্কুল-কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে তাত্ত্বিক শিক্ষার ওপর যতটা জোর দেওয়া হয়, ব্যবহারিক দক্ষতা বা প্র্যাকটিক্যাল স্কিল অর্জনের সুযোগ তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম থাকে। ফলে উচ্চ ডিগ্রিধারী যুবকরা যখন চাকরির বাজারে প্রবেশ করেন, তখন আধুনিক ইন্ডাস্ট্রির প্রয়োজনীয় দক্ষতার সঙ্গে তাঁদের যোগ্যতার ফারাক দেখা দেয়। এর জেরে ডিগ্রি থাকলেও এমপ্লয়বিলিটি বা কাজ পাওয়ার উপযোগিতা কমতে থাকে।
পাশাপাশি, দেশের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোয় শ্বেতপত্র বা হোয়াইট কলার চাকরির সুযোগ যেভাবে বাড়ছে, তার তুলনায় চাকরির প্রার্থীর সংখ্যা বহুগুণ বেশি। ফলে ছোট বা এন্ট্রি-লেভেল কাজগুলিতে মানিয়ে নিতে অনেক উচ্চশিক্ষিত যুবকই দ্বিধাবোধ করেন, যা বেকারত্বের গ্রাফকে আরও উর্ধ্বমুখী করে তোলে। ডিগ্রি অর্জনের এই প্রতিযোগিতায় কেবল সার্টিফিকেট সর্বস্ব পড়াশোনা না বাড়িয়ে শিক্ষাকে যদি কর্মমুখী করে তোলা না যায়, তবে আগামী দিনে এই বেকারত্বের জ্বালা আরও তীব্র আকার ধারণ করবে বলেই সতর্ক করছেন শিক্ষাবিদরা।