মুকেশ আম্বানি ও বিজেপির গোপন যোগ নিয়ে বোমা ফাটালেন ইলন মাস্ক! সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা গুচ্ছ রিপোর্ট ঘিরে দেশজুড়ে তুফান

ভারতের টেলিকম ও স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে স্টারলিঙ্কের লাইসেন্স পাওয়া নিয়ে মুকেশ আম্বানির সঙ্গে ইলন মাস্কের দ্বন্দ্ব নতুন মোড় নিয়েছে। এর আগে সরাসরি আম্বানিকে আক্রমণ করে তাঁকে ‘প্রধানমন্ত্রী আম্বানি’ বলে কটাক্ষ করার পর, এবার রিলায়েন্স গোষ্ঠীর সঙ্গে বিজেপির রাজনৈতিক অনুদান এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারের যোগসূত্র টানলেন টেসলা কর্তা। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে (X) একের পর এক পুরনো সংবাদ প্রতিবেদন ও তথ্য শেয়ার করে ভারতের প্রভাবশালী শিল্পপতি ও শাসকদলের বিরুদ্ধে রীতিমতো খড়্গহস্ত হয়েছেন তিনি।

মাস্কের শেয়ার করা ওই সমস্ত প্রতিবেদনের মধ্যে রয়েছে ২০২২ সালের আল জাজিরার একটি রিপোর্ট, যেখানে দাবি করা হয়েছিল রিলায়েন্সের অর্থপুষ্ট একটি সংস্থা কীভাবে ফেসবুকে বিজেপির প্রচারে সাহায্য করে। পাশাপাশি নির্বাচনী বন্ড বা ইলেকট্রোরাল বন্ডের মাধ্যমে রিলায়েন্সের সঙ্গে যুক্ত সংস্থা কর্তৃক রাজনৈতিক দলগুলিকে বিশাল অঙ্কের অনুদান দেওয়ার পুরনো তথ্যও সামনে এনেছেন তিনি। ভারতের বাজারে স্টারলিঙ্কের প্রবেশ আটকাতে এবং নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখতে দেশের এই শিল্পপতিরাই সমস্ত বাধা তৈরি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্বের এই শীর্ষ ধনীতম ব্যক্তি।

যদিও ইলন মাস্কের এই আক্রমণাত্মক অবস্থানের প্রেক্ষিতে রিলায়েন্স গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে এই পুরো বিষয়ে আসরে নেমে কড়া অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। টেলিকমমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভারতে কোনো সংস্থাকেই একচেটিয়া ব্যবসার লাইসেন্স দেওয়া হবে না এবং স্টারলিঙ্ককে সার্ভিস চালু করতে হলে দেশের সমস্ত আইনি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত বাধ্যতামূলকভাবে পূরণ করতে হবে। সব মিলিয়ে, মুকেশ আম্বানি বনাম ইলন মাস্কের এই লড়াই এখন ভারতীয় রাজনীতির আঙিনায় এক নতুন বিতর্কের ঝড় তুলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *