৮ ঘণ্টা ঘুমের পরেও সারাদিন শরীরে এনার্জি থাকে না? অবিলম্বে বদলান এই ছোট্ট দৈনন্দিন অভ্যাসগুলি

রাতে নিয়ম মেনে পুরো ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরেও যদি সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর ক্লান্ত লাগে বা ভারী হয়ে থাকে, তবে তা সাধারণ বিষয় নয়। মাঝেমধ্যে এমনটা হওয়া স্বাভাবিক মনে হলেও প্রতিদিন এই সমস্যা দেখা দিলে তা অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। চিকিৎসকদের মতে, এর পেছনে জড়িয়ে থাকতে পারে আপনার দৈনন্দিন জীবনের বেশ কিছু ছোট অথচ মারাত্মক ক্ষতিকর অভ্যাস, যা অজান্তেই আপনার শরীরের সমস্ত শক্তি শুষে নিচ্ছে।

সারাদিন চনমনে থাকতে এবং শরীর চাঙ্গা রাখতে যে ৫টি বদভ্যাস অবিলম্বে ত্যাগ করা দরকার:

১. ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার:
অনেকেই রাতে বিছানায় শুয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্মার্টফোনে রিল, শর্ট ভিডিও বা গেম খেলেন। ফোনের স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো মস্তিষ্ককে সজাগ রাখে এবং স্বাভাবিক ঘুমে বাধা দেয়। ফলে ৮ ঘণ্টা বিছানায় কাটালেও সেই ঘুম গভীর হয় না, যার জেরে সকালেও ক্লান্তি কাটতে চায় না।

২. সকালের খাবার বাদ দেওয়া বা দেরিতে লাঞ্চ:
সকালের ব্রেকফাস্ট স্কিপ করা কিংবা অনেক দেরկিতে দুপুরের খাবার খাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত কমে যায়, যা ক্লান্তি ও তীব্র মাথাব্যথার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মিষ্টি বা প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাক্স সাময়িকভাবে এনার্জি দিলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। এর পরিবর্তে প্রোটিনযুক্ত সুষম খাবার খাওয়া জরুরি।

৩. পর্যাপ্ত জল না খাওয়া:
সামান্য কম জল খাওয়ার অভ্যাসও আপনাকে অলস, ঘুম ঘুম ভাবযুক্ত ও অমনোযোগী করে তুলতে পারে। বিশেষ করে এসি রুমে সারা দিন বসে কাজ করার সময় অনেকেই জল খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দেন। তাই জলের পাশাপাশি পাতিলেবুর জল, ডাবের জল বা ঘোল নিয়মিত ডায়েটে রাখা উচিত।

৪. একটানা দীর্ঘক্ষণ চেয়ারে বসে কাজ:
সারাদিন একটানা ডেস্কে বসে কাজ করা শারীরিক পরিশ্রমের চেয়েও বেশি ক্লান্তিকর হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ শরীর স্থির থাকলে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয় এবং পেশী শক্ত হয়ে যায়। তাই কাজের ফাঁকে প্রতি ঘণ্টায় অন্তত কিছুটা সময় উঠে হাঁটা বা দাঁড়িয়ে শরীর সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি।

৫. অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ:
কফি বা চা সাময়িকভাবে আপনাকে চনমনে করলেও অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে রাতের ঘুমের মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে। বিশেষ করে বিকেলের পর চা বা কফি খাওয়ার অভ্যাস শরীরের ক্লান্তি আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই ক্যাফেইনের মাত্রা কমিয়ে হার্বাল টি বা গ্রিন টি খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
এই সমস্ত ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো শুধরে নেওয়ার পরেও যদি সপ্তাহের পর সপ্তাহ আপনার ক্লান্তি না কমে, তবে দেরি না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শরীরে আয়রন, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি-১২ এর ঘাটতি কিংবা থাইরয়েডের সমস্যার কারণেও এমনটা হতে পারে। একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষা করলেই এর আসল কারণ সহজেই জানা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *