“ছেলেমেয়েরা হতাশার শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে!” দিল্লির মহা-বিক্ষোভ ও বিরোধীদের রাষ্ট্রপতি সাক্ষাৎ নিয়ে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ

ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম এবং ভোট চুরির অভিযোগ তুলে শুক্রবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করেছিল ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোট। আর ঠিক তার পরের দিনই, শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে রাজধানী জুড়ে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা। রাজধানীজুড়ে ট্রেন ও মেট্রো চলাচল বন্ধ রাখা এবং ব্যাপক নিরাপত্তা বলয়ের এই পরিস্থিতির মাঝে মুখ খুললেন বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

হতাশার শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে যুবসমাজ: দিলীপ ঘোষ
দিল্লির এই ধুন্ধুমার বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা কড়াকড়ি প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “এত কিছু দিক থেকে এই যে আন্দোলন, আজকের জন্য, সেই জায়গা থেকে একদম চারদিকে বন্ধ এবং মব জনতা পার্টি তারা কোনোভাবে ছাড়বে না বলছে… ছেলেমেয়েরা হতাশার শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে। তাই যা কিছু করতে পারে, যে কোনও কিছু ঘটনা ঘটতে পারে বলে সরকার সতর্ক হয়েছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আন্দোলন করতে বাধা নেই কাউকে, সবাই নিজের বক্তব্য রাখতে পারে, গণতান্ত্রিক আন্দোলন হতেই পারে। কিন্তু যেভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে, সাধারণ মানুষও ভয়ের মধ্যে আছেন, যেন সরকার যাতে সুস্থভাবে এসব প্রোগ্রাম হয়ে যায়, তার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছে।”

রাষ্ট্রপতি ভবন অভিযান ও বিরোধীদের দাবি নিয়ে কটাক্ষ:
অন্যদিকে, বিরোধী জোটের রাষ্ট্রপতি ভবন অভিযান এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর দাবি—যেখানে তিনি বলেছেন রাষ্ট্রপতি তাঁদের অভিযোগ খণ্ডন করেননি, বরং প্রমাণ চেয়েছেন—তাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন দিলীপ ঘোষ। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “দেখুন, হাঁটতে হাঁটতে হারাধন হয়ে গেছেন ওনারা। আর কী, ওনারা জিতে আসছিলেন কি ছিল? যেই হাঁটতে আরম্ভ করেছে তখন সব বাতিল করে দাও। এভাবে দেশ চলতে পারে না।”

বিরোধী শিবিরকে তোপ দেগে দিলীপ আরও বলেন, “ওনারা ভাবছে অন্যান্য দেশে যেরকম একটা উৎপাত করে সরকার পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা করছে, ভারতবর্ষকে না জেনে আজকে দায়ী করেছেন। ভারতের লোক ওদেরকেই পাল্টে দেবেন। ভারতের পরম্পরা, সংস্কৃতি, গণতন্ত্র আমাদের রক্তে আছে। এখানকার মানুষকে ভড়কে দিয়ে কেউ কিছু করতে পারবে না।”

উল্লেখ্য, একাধারে সিজেপির পূর্বঘোষিত বিক্ষোভের জেরে ৪৫টি মেট্রো স্টেশন ও ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় অবরুদ্ধ দিল্লি, অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলে এই আন্দোলন ও রাষ্ট্রপতি সাক্ষাতের জল গড়িয়েছে বহুদূর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *