মেট্রো-রেল বন্ধ রাখার একরোখা সিদ্ধান্ত কেন? কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে তুলোধোনা শীর্ষ আদালতের

গত তিন দশক ধরে রাজধানীর বুকে রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের প্রধান প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছে সেন্ট্রাল দিল্লির যন্তর মন্তর (Jantar Mantar)। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে আন্দোলন চলাকালীন সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি এবং জরুরি পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে এবার বড় পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। প্রতিবাদের জন্য যন্তর মন্তরের বিকল্প কোনো স্থান খোঁজার পরামর্শ দিল শীর্ষ আদালত।
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনায়ের বিশেষ বেঞ্চ শুক্রবার এক শুনানিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ পেশ করেছে। আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, নাগরিকরা যাতে তাঁদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ অত্যন্ত সাবলীলভাবে জানাতে পারেন এবং একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও জরুরি পরিষেবা কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়—তার জন্য আরও বড় এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বিকল্প বিক্ষোভস্থল চিহ্নিত করা অত্যন্ত জরুরি।
পাশাপাশি, আগামীকালের নির্ধারিত একটি রাজনৈতিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের কড়াকড়ি নিয়ে কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বিক্ষোভ সামাল দিতে গণপরিবহন বা ৫৭টি মেট্রো স্টেশন পুরোপুরি বন্ধ রাখার যে সিদ্ধান্ত প্রশাসন নিয়েছে, তা অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রাজনৈতিক মহলের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপে আগামী দিনে রাজধানীর আন্দোলন ও প্রতিবাদের রূপরেখা সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে।