হার্ট অ্যাটাক আর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট কি একই বিষয়? ৯৯% মানুষই জানেন না এই মারাত্মক পার্থক্যের কথা!

হৃদরোগ বা হার্টের সমস্যা সংক্রান্ত আলোচনার সময় প্রায়ই দুটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ভীতিজনক শব্দ শোনা যায়— ‘হার্ট অ্যাটাক’ (Heart Attack) এবং ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ (Cardiac Arrest)। অনেকেই এই দুটি শব্দকে সমার্থক বা একই চিকিৎসাগত অবস্থা বলে মনে করেন। কিন্তু পেশাদার চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং কার্ডিওলজিস্টদের মতে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। এই দুটির মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। আর সঠিক সময়ে এই পার্থক্য জানা না থাকার কারণে বহু ক্ষেত্রেই রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব হয় না।

আসুন এক নজরে জেনে নেওয়া যাক হার্ট অ্যাটাক এবং কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের মধ্যে ঠিক কী মৌলিক পার্থক্য রয়েছে:

১. হার্ট অ্যাটাক আসলে কী?
সহজ কথায় হার্ট অ্যাটাক হলো রক্তনালীর সমস্যা। যখন হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী ধমনীতে কোনো কারণে ব্লকেজ বা বাধা সৃষ্টি হয় এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেনযুক্ত রক্ত হৃদপেশীর কাছে পৌঁছাতে পারে না, তখন হার্ট অ্যাটাক হয়। এর ফলে হৃৎপিণ্ডের একটি নির্দিষ্ট অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। হার্ট অ্যাটাকের সময় রোগী সাধারণত সচেতন থাকেন এবং তাঁর বুকে তীব্র চাপ, ব্যথা, হাত বা চোয়ালে যন্ত্রণা এবং শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দেয়। এটি মূলত ‘সার্কুলেশন’ বা রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা।

২. কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট কী?
অন্যদিকে, কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলো সরাসরি হৃদস্পন্দনের বৈদ্যুতিক গোলযোগ। কোনো পূর্বসঙ্কেত ছাড়াই হঠাৎ যখন হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং হার্ট পাম্প করা বন্ধ করে দেয়, তখন তাকে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বলা হয়। এর ফলে মুহূর্তে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, রোগী আকস্মিকভাবে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে তাঁর নাড়ির স্পন্দন ও শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। সময়মতো সিপিআর (CPR) বা ডিফিব্রিলেটর ব্যবহার না করলে এটি সরাসরি মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

৩. মূল পার্থক্য কোথায়?

সমস্যা কোথায় হয়: হার্ট অ্যাটাক হয় রক্তনালীতে বা প্লাম্বিং সিস্টেমে, আর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় হার্টের ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেমে।

চেতনা: হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারণত সচেতন থাকেন, কিন্তু কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত ব্যক্তি সঙ্গে সঙ্গেই অচেতন হয়ে পড়েন।

সম্পর্ক: কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট যেকোনো সময় হুট করে হতে পারে, তবে অনেক ক্ষেত্রেই গুরুতর হার্ট অ্যাটাকের একটি জটিল পরিণতি হিসেবেও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং জীবনযাত্রায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক সময়ে সঠিক উপসর্গ চেনা থাকলে বহু মূল্যবান প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *