দিল্লির রাজপথে নজিরবিহীন উত্তেজনা! নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল যন্তর মন্তর, নামল ২৬ হাজার সেনা!

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ‘স্পেশ্যাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন’ বা এসআইআর বাতিল করার দাবিতে শনিবার দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA)-এর যৌথ মহা-বিক্ষোভ অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লি কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারার অধীনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দিল্লি পুলিশ এই প্রতিবাদের কোনো অনুমতি দেয়নি। উল্টে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অ্যাপ-ভিত্তিক ক্যাব চলাচলে কড়াকড়ি, অস্থায়ী ডিটেনশন সেন্টার তৈরি এবং নজিরবিহীন সংখ্যার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি ২৬,০০০-এরও বেশি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফর এবং তৎকালীন দিল্লি দাঙ্গার পর রাজধানীতে এটিই সবচেয়ে বড় পুলিশ ও আধা-সেনা মোতায়েনের ঘটনা।
নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী ও অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে সিআরপিএফ, বিএসএফ, এসএসবি, আইটিবিপি এবং সিআইএসএফ-এর অন্তত ১১০টি অতিরিক্ত কোম্পানি দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর, পশ্চিমবঙ্গ এবং ছত্তীসগড় থেকে আসা এই নতুন বাহিনী ইতিমধ্যেই দিল্লিতে কর্মরত ১১১টি কোম্পানির সঙ্গে যোগ দিয়েছে। সবমিলিয়ে মোট ২২১টি সিএপিএফ কোম্পানি বর্তমানে পুরো দিল্লির নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলাচ্ছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও বিরোধী নেতাদের সমর্থন
কেবল ছাত্র-যুবরাই নন, একাধিক প্রভাবশালী সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনও শনিবারের এই রাজপথ অভিযানে সামিল হওয়ার ঘোষণা করেছে। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব তথা রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব শুক্রবার রাষ্ট্রপতি ভবন অভিযানের আর্জি জানানোর পর শনিবারের যন্তর মন্তর কর্মসূচিতেও সংহতি প্রকাশ করেছেন।
অ্যাপ-ক্যাব ও যান চলাচলে ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপের ফলে সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সবমিলিয়ে, জ্ঞানেশ কুমার বিরোধী এই আন্দোলন এখন দিল্লির রাজপথকে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রে পরিণত করেছে।