মমতার হাত ছাড়ছেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়?-বাড়ছে গেরুয়া শিবরে যোগদানের জল্পনা!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙন এবং রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের জল্পনা এখন তুঙ্গে। চৌরঙ্গির তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং তাঁর দলবদল নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। নয়নার স্বামী তথা তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদ শিবিরের অন্যতম নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক এক মন্তব্য ঘিরেই এই জল্পনা এখন সর্বাধিক চর্চিত।

মোদী-শাহের বৈঠকে নয়না:

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই বৈঠকে তাঁর স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন বলে নিজেই বোমা ফাটিয়েছেন সুদীপ। সুদীপের দাবি, অমিত শাহের সঙ্গে কথা বলার সময় নয়নাও উপস্থিত ছিলেন এবং বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের লড়াই নিয়েও সেখানে আলোচনা হয়। শুধু তাই নয়, নয়না নাকি বিরোধী শিবির তথা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক আলোচনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যা তৃণমূল শিবিরের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

যদিও সুদীপ স্পষ্ট করেছেন যে, নয়নার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাঁর নিজের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে স্বামী-স্ত্রীর এই ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে বড় কোনো পালাবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

বিদ্রোহী সাংসদদের আইনি লড়াই ও সময় বৃদ্ধি:

অন্যিদিকে, তৃণমূলের অন্দরে চলা সাংসদ বিদ্রোহ নিয়ে চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। দলীয় নেতৃত্ব ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আনা দলত্যাগ বিরোধী আইনের অভিযোগে কাঠগড়ায় থাকা ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার পাঠানো নোটিসের জবাব জমা দেওয়ার নির্ধারিত দিন শেষ হলেও, প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র সংগ্রহের অজুহাতে আরও দু’সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারেরা।

তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব বাঁচাতে এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভাঙার দায় এড়াতে এই ধরণের কালক্ষেপ করছেন বিদ্রোহীরা। সবমিলিয়ে, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য পদক্ষেপ এবং বিদ্রোহী সাংসদদের আইনি লড়াই—উভয় মিলেই বাংলা তথা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মোড়ের অপেক্ষা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *