অনলাইন অর্ডারে বিষ খাচ্ছেন না তো? মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার বিক্রির অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ ফুড সেফটির!

অনলাইনে খাবার অর্ডার করার অভ্যাস রয়েছে? তবে এই খবর আপনার চোখ কপালে তুলে দিতে পারে। মানুষের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি ছিনিমিনি খেলার অভিযোগে এবার দেশের অন্যতম প্রধান ফুড রেগুলেটরি অথরিটি FSSAI একগুচ্ছ জনপ্রিয় কোম্পানির বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ বা এক্সপায়ার্ড খাবার বিক্রি এবং খাবারে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশকের উপস্থিতি ধরা পড়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে দেশজুড়ে।

শ্রেয়াশ রিটেইলের লাইসেন্স বাতিল

খাদ্য সুরক্ষা আইন ভঙ্গের অভিযোগে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI) অবিলম্বে ‘শ্রেয়াশ রিটেল প্রাইভেট লিমিটেড’ (Shreyash Retail Pvt. Ltd.) সংস্থার ফুড লাইসেন্স বাতিল করেছে। জনপ্রিয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ফ্লিপকার্টের মাধ্যমে ঘরে ঘরে মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য সরবরাহের অভিযোগ ওঠে এই কোম্পানির বিরুদ্ধে।

FSSAI সূত্রে জানা গেছে, এই সংস্থার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ১৩০টিরও বেশি গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ৭০টি অভিযোগই ছিল সরাসরি এক্সপায়ার্ড বা নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবার বিক্রির। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন যে, অনলাইনে অর্ডার করা সেই খাবার খাওয়ার পরেই তাঁদের বমি ও পেটের মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়। এরপর দিল্লি ও নয়ডার বিভিন্ন গুদাম ও ডেলিভারি সেন্টারে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে সত্যতা পান আধিকারিকরা। সেখানে যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার এবং চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখতে পাওয়া যায়।

কিশমিশে অতিরিক্ত কীটনাশক

শুধু শ্রেয়াশ রিটেলই নয়, FSSAI-এর কড়া নজরে পড়েছে ‘নেক্স ইন্টারন্যাশনাল’ (Nex International) নামের আরও একটি সংস্থা। এই কোম্পানির খোলা কিশমিশের নমুনা পরীক্ষা করার পর তাতে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে ক্ষতিকর কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ বা পেস্টিসাইড পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে রেফারেল ল্যাবরেটরিতে পুনরায় পরীক্ষার পরও ওই কিশমিশ মানুষের খাওয়ার জন্য সম্পূর্ণ অসুরক্ষিত বলে প্রমাণিত হয়। এর জেরে ওই সংস্থার বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ ও মামলা করার ছাড়পত্র দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনেও নোটিশ

পাশাপাশি, বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন হেলথ সাপ্লিমেন্ট ও পণ্যের ভুল ও বিভ্রান্তিকর প্রচারের বিরুদ্ধেও তোপ দেগেছে খাদ্য সুরক্ষা নিগম। জনপ্রিয় পণ্য ‘সেলেভ ইডা জিএলপি প্লাস’ (Celev ida GLP+)-এর অতি-দাবি এবং বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের অভিযোগে ডক্টর রেড্ডি’স, নেসলে হেলথ সায়েন্স, ফ্লিপকার্ট, অ্যামাজন এবং নেটমেডস-এর মতো বড় বড় সংস্থাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎসবের মরসুমে এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ সাধারণ ক্রেতাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *