এক চুমুক জল দিয়ে ওষুধ খাচ্ছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন মারাত্মক বিপদ, জানুন চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা!

আমরা অনেকেই অসুস্থতার সময় চিকিৎসকের পরামর্শ মতো নির্দিষ্ট সময়ে ওষুধ খাই ঠিকই, তবে তাড়াহুড়োয় এক চুমুক জল দিয়ে বা অনেক সময় জল ছাড়াই শুকনো ট্যাবলেট গিলে ফেলি। আপাতদৃষ্টিতে এই বিষয়টি ছোট মনে হলেও, চিকিৎসকদের মতে এই ছোট্ট ভুল অভ্যাসের কারণে ওষুধের কার্যকারিতা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। শুধু তাই নয়, গলার ভেতরে বা খাদ্যনালীতে ঘা পর্যন্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ঠিক কতটুকু জল দিয়ে ওষুধ খাওয়া উচিত?

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, যেকোনো ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল সঠিকভাবে খাওয়ার জন্য অন্তত এক পুরো গ্লাস অর্থাৎ ২০০ থেকে ২৫০ মিলি সাধারণ তাপমাত্রার জল খাওয়া বাধ্যতামূলক। কম জলে ওষুধ গিললে বিশেষ করে জিলেটিন ক্যাপসুলগুলো খাদ্যনালী বা ইসোফেগাসে আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেখানে আটকে থেকে ওষুধটি গলতে শুরু করলে খাদ্যনালীতে তীব্র জ্বালা, বুকে ব্যথা কিংবা আলসারের মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে। পুরো এক গ্লাস জল দ্রুত ট্যাবলেটটিকে সোজা পাকস্থলীতে পৌঁছে দেয়, যেখানে এটি সঠিকভাবে গলে রক্তে মিশে কাজ শুরু করতে পারে।

কোন ভুলগুলি একদম করবেন না?

  • চা, দুধ বা জুস দিয়ে ওষুধ খাওয়া: ভুলেও গরম জল, দুধ, চা, কফি বা কোল্ড ড্রিংকস দিয়ে ওষুধ খাবেন না। দুধে থাকা ক্যালসিয়াম এবং চা-কফিতে থাকা ক্যাফিন অনেক ওষুধের সঙ্গে বিক্রিয়া করে। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক বা থাইরয়েডের ওষুধ দুধ দিয়ে খেলে তার কার্যকারিতা প্রায় অর্ধেক কমে যেতে পারে।

  • ওষুধ খেয়েই শুয়ে পড়া: রাতের বেলা ওষুধ খেয়েই বিছানায় গা এলিয়ে দেওয়ার অভ্যাস অনেকেরই থাকে। এই অভ্যাস অত্যন্ত বিপজ্জনক। ওষুধ খাওয়ার পর অন্তত ১৫ থেকে ৩০ মিনিট সোজা হয়ে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা উচিত, অন্যথায় ওষুধ পুনরায় খাদ্যনালীতে ফিরে আসার ঝুঁকি থাকে।

তাই ওষুধের সম্পূর্ণ সুফল পেতে এবং শারীরিক জটিলতা এড়াতে এবার থেকে এক চুমুকের বদলে এক গ্লাস জল খাওয়ার অভ্যাস করুন এবং নিয়মগুলো মেনে চলুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *