কম ঘুমেই কি শেষ হচ্ছে আপনার মস্তিষ্ক? ডিমেনশিয়া এড়াতে প্রতিদিন কতক্ষণ ঘুমানো জরুরি জানুন

আধুনিক ব্যস্ত জীবনযাত্রায় আমাদের অনেকের কাছেই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত বিষয় হলো পর্যাপ্ত ঘুম। কাজের চাপ, মোবাইল স্ক্রিন আর ওটিটির দুনিয়ায় রাত জাগা এখন নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই কম ঘুমই ধীরে ধীরে আপনার মস্তিষ্ককে নিঃশেষ করে দিচ্ছে? ডেকে আনছে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রম এবং অ্যালঝাইমার্সের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি। সম্প্রতি ঘুম ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য নিয়ে একাধিক আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে চোখ কপালে তোলার মতো তথ্য।
ঘুমের সময় মস্তিষ্কে আসলে কী ঘটে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমরা যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকি, তখন আমাদের মস্তিষ্ক বিশ্রাম নিলেও তার আসল পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করে। সারাদিনের কায়িক ও মানসিক পরিশ্রমে মস্তিষ্কে কিছু টক্সিক প্রোটিন বা বর্জ্য পদার্থ (যেমন অ্যামাইলয়েড বিটা এবং টাউ প্রোটিন) জমা হয়। ঘুমের সময় মস্তিষ্কের বিশেষ ‘গ্লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম’ এই বর্জ্যগুলো শরীর থেকে পরিষ্কার করে দেয়।
কিন্তু নিয়মিত কম ঘুমালে এই জঞ্জাল পরিষ্কার হওয়ার সুযোগ পায় না। ফলে দিনের পর দিন টক্সিক প্রোটিন মস্তিষ্কে জমতে থাকে, যা পরবর্তীতে ডিমেনশিয়া ও অ্যালঝাইমার্সের মতো ভয়ঙ্কর রোগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলেই মানুষ ধীরে ধীরে স্মৃতিশক্তি হারাতে শুরু করে এবং চেনা জিনিসও ভুলে যায়।
কতক্ষণ ঘুমানো আদর্শ?
শুধু ৮ ঘণ্টা ঘুমালেই কি ডিমেনশিয়া একশো শতাংশ আটকানো সম্ভব? চিকিৎসকদের মতে, ৮ ঘণ্টা বা তার কাছাকাছি ঘুম অত্যন্ত জরুরি ঠিকই, তবে অতিরিক্ত বা অপর্যাপ্ত—দুটোই ক্ষতিকর। গবেষণায় দেখা গেছে:
-
যাঁরা নিয়মিত ৬ ঘণ্টার কম ঘুমান, তাঁদের মধ্যে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি থাকে।
-
অন্যদিকে, যাঁরা ৯ থেকে ১০ ঘণ্টার বেশি ঘুমান, তাঁদের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি বাড়ে, কারণ অতিরিক্ত ঘুম অনেক সময় শারীরিক অন্য কোনো জটিলতার লক্ষণ হতে পারে।
তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন রাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুমই মস্তিষ্ককে দীর্ঘদিন তরুণ ও সতেজ রাখার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।