১০৬ থেকে এক ধাক্কায় ৮৫! এশিয়ান গেমসে ফ্লপ পারফরম্যান্সের পর কড়া পদক্ষেপের মুখে ভারতীয় তারকারা

জাপানের আইচি-নাগোয়ায় সদ্য সমাপ্ত এশিয়ান গেমস ২০২৬-এ ভারতের পারফরম্যান্স নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রক। প্রায় ৫০০ জনের বিশাল ভারতীয় দল পাঠিয়েই আগেরবারের রেকর্ডের থেকেও বেশি পদকের আশা করা হয়েছিল। কিন্তু ফলাফল হয়েছে একেবারেই উল্টো। পূর্বের সাফল্য তো দূরের কথা, ১০৬টি পদকের রেকর্ড ছুতেও পারেনি ভারত। এই চরম ব্যর্থতা পর্যালোচনা করতে আগামী ১৩ অক্টোবর সমস্ত জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের রিভিউ মিটিং ডেকেছে ক্রীড়া মন্ত্রক।
রেকর্ড ভাঙা দূর, আগের অর্জনের ধারেকাছেও নেই ভারত
এবারের আসরে ভারত ২১টি সোনা সহ মোট ৮৫টি পদক জিততে সক্ষম হয়েছে। অথচ গত এশিয়ান গেমসে ভারতের ঝুলিতে এসেছিল রেকর্ড ১০৬টি পদক। শুধু তা-ই নয়, গত আসরে যে সাতটি খেলায় ভারত সোনা জিতেছিল, এবার সেগুলোতে নিজেদের শীর্ষ স্থান ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন ভারতীয় অ্যাথলিটরা। বিশেষ করে ব্যাডমিন্টন, শুটিং এবং অ্যাথলেটিক্সে অভিজ্ঞ অ্যাথলিটদের ধারাবাহিক ব্যর্থতাই এই ধসের মূল কারণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
৮৯ তারকা কোনো পদক পাননি, আর্থিক সাহায্যে কোপ?
ক্রীড়া মন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডবিয়ার সভাপতিত্বে বসতে চলা এই রিভিউ বৈঠকে সবচেয়ে বড় নজর থাকবে সরকারি তহবিলের সঠিক ব্যবহারের ওপর। কেন্দ্র সরকারের ফ্ল্যাগশিপ স্কিম টার্গেট অলিম্পিক পডিয়াম স্কিম (TOPS)-এর আওতায় প্রচুর আর্থিক সহায়তা পাওয়া ৮৯ জন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ২৩টি ভিন্ন ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও কোনো পদক আনতে পারেননি। ক্রীড়া মন্ত্রকের মতে, কিছু নির্দিষ্ট খেলায় সরকারি বিপুল বিনিয়োগ হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল আসছে না। তাই এই প্রকল্প ও আর্থিক সহায়তার রূপরেখায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
তরুণেরাই আশা জোগাচ্ছে ভবিষ্যতের
পুরোনো ও অভিজ্ঞরা হতাশ করলেও আশার আলো দেখাচ্ছেন নতুনরা। প্রথমবার এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়া ৩১০ জন নতুন ভারতীয় খেলোয়াড় মিলিয়ে মোট ৪১টি পদক জয় করেছেন। নতুন এই প্রতিভাদের সাফল্যকে দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছে মন্ত্রক। ১৩ অক্টোবরের এই মেগা বৈঠকের পরই বোঝা যাবে ব্যর্থ অ্যাথলিটদের ওপর কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয় নাকি নতুন কোনো কৌশল সাজানো হয়।