মহালয়ার আগেই ছাই দুর্গাপুজোর মণ্ডপ! গভীর রাতে দাউদাউ আগুনে চোখের জলে ভাসল পুরো এলাকা

মহালয়ার ঠিক মুখেই উৎসবের আনন্দে নেমে এল ঘন অন্ধকার ও শোকের ছায়া। উত্তর ২৪ পরগনার টাকিতে গভীর রাতে আচমকা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেল একটি দুর্গাপুজোর আস্ত মণ্ডপ। কয়েক মাসের পরিশ্রম, প্রস্তুতি আর আবেগ নিমেষের মধ্যে চোখের সামনে লেলিহান শিখায় ভস্মীভূত হয়ে যাওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পুজো উদ্যোক্তা ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
গভীর রাতে ভয়াবহ আগুন
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার টাকি এলাকার ‘টাকি যুব গোষ্ঠী’ ক্লাবের পুজোমণ্ডপে। জানা গিয়েছে, গভীর রাতে যখন গোটা এলাকা ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক সেই সময়েই আচমকা মণ্ডপ থেকে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। মণ্ডপে বাঁশ, কাপড়ের মতো দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন নিমেষের মধ্যে ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং পুরো পুজোমণ্ডপকে গ্রাস করে নেয়।
আগুন নেভানোর চেষ্টা ও ধ্বংসলীলা
রাতের অন্ধকারে মণ্ডপে আগুন দেখতে পেয়েই চিৎকার শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অকুস্থলে ছুটে আসেন ক্লাবের সদস্য ও স্থানীয় প্রতিবেশীরা। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও দমকল বাহিনীতে। তবে দমকল আসার আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা বালতি বালতি জল ও ক্লাবে থাকা প্রাথমিক অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আপ্রাণ চেষ্টা চালান। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, দেখতে দেখতে মণ্ডপের অধিকাংশ অংশই পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
নেপথ্যে কী কারণ? শুরু তদন্ত
পরবর্তীকালে হাসনাবাদ থানার পুলিশ এবং দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কীভাবে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হলো, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা। শর্ট সার্কিট, নাকি কোনো অসাবধানতা, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো অন্তর্ঘাত—সব দিক খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। ঘটনার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র বা নাশকতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হাসনাবাদ থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
মহালয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় স্তব্ধ পুরো টাকি এলাকা। উৎসবের মুখে পুজো উদ্যোক্তাদের এই বড় ক্ষতি সামলে উঠে কীভাবে আবার নতুন করে পুজো শুরু করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয়ে পুজো কমিটি।