ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচনের জোর প্রস্তুতি, চলছে পরিবর্তন ও প্রত্যাবর্তনের লড়াই
২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে চলছে জোর প্রস্তুতি। কেউ কেউ চাইছেন পরিবর্তন, আবার কেউ চাইছেন প্রত্যাবর্তন। ত্রিপুরাসহ আরো ৩ রাজ্যে হবে এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি ত্রিপুরায় বিধানসভার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার (২৮ জানুয়ারি) ভোট নিয়ে দিনভর চলে চুলচেরা বিশ্লেষণ। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত একের পর এক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে শাসকদল বিজেপি, জোট শরিক আইপিএফটি এবং কংগ্রেস।
রোববার সকালে ২০ আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে তিপ্রা মথা। এর আগেই ২৫ জানুয়ারি রাতে ৬০ আসনের ত্রিপুরা রাজ্যে ৪৩ আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে সিপিআইএম।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে মনোনয়ন দাখিলের বাকি রয়েছে আর মাত্র দুই দিন। ২৯ জানুয়ারি রোববার হওয়ায় সরকারিভাবে ছুটির দিন রাজ্যটিতে। এদিক থেকে হিসেব করলে শুধুমাত্র সোমবারই দাখিল করা যাবে মনোনয়ন। যদিও এর আগে ২৯ জানুয়ারি প্রার্থী তালিকা ঘোষণার কথা রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসেরও।
শনিবার দিনের শুরুতে বেলা প্রায় দুইটা নাগাদ ৪৮ আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে শাসকদল বিজেপি। এরপর বিকালে মোট ১৭ টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে বিরোধী কংগ্রেস। পরে রাতের মধ্যেই শাসক বিজেপি আরো এক দফায় ৬ আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে। অন্যদিকে, শাসকদলের শরিক আইপিএফটিও রাত ৯টা নাগাদ মোট ৫ আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে।
এদিকে, দফায় দফায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ায় রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেছে এবারের বিধানসভা নির্বাচন। শাসকদল বিজেপি ২ দফায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেও ৬ আগরতলা বিধানসভা কেন্দ্রে ঘোষণা করতে পারেনি কোনো প্রার্থীর নাম। প্রসঙ্গত এই আসনেই মাত্র ৬ মাস আগে অনুষ্ঠিত হয় উপনির্বাচন। আর এতেই কংগ্রেসের কাছে পরাজিত হতে হয় বিজেপি প্রার্থী ড. অশোক সিনহাকে।
অন্যদিকে, পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৯৮ সাল থেকে এই কেন্দ্রে টানা জয়ের মুখ দেখে আসছে কংগ্রেস। তাও আবার একই প্রার্থী! এই অবস্থায় কি করবে শাসকদল বিজেপি? বিজেপির বিভিন্ন সূত্র বলছে, এটা ভেবেই এখন পর্যন্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি ৬ আগরতলা বিধানসভা কেন্দ্রে।
অন্যদিকে, বাম কংগ্রেস জোটের পক্ষে ইতিমধ্যেই রাজ্যের বেশিরভাগ আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে বামফ্রন্ট। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কংগ্রেসও তার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে। আসন সমঝোতা হলেও চার আসনে প্রার্থী রয়েছে উভয় দলের।
বাম কংগ্রেস জোট হিসেবে লড়াই করলেও কেন উভয় দলের প্রার্থী থাকবে একই আসনে? কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করায় তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে এআইসিসি’র সঙ্গে কথা হয়েছে।