দলের ভিতরেই ধুন্ধুমার! স্পিকারের ডেডলাইনের দিনই তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরে বিরাট ধস?

একদিকে সাংসদ পদ টিকিয়ে রাখার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই, অন্যদিকে ঘরের ভেতরেই চরম অন্তর্দ্বন্দ্ব! তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ ২০ জন সাংসদকে নিয়ে গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিআই (NCPI)-এর অন্দরে কোন্দল এবার প্রকাশ্যে এল। সূত্রের খবর, ব্রাজিল ম্যাচের টিকিট ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে অসন্তোষ এমন চরমে পৌঁছায় যে দলের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন এক অভিনেত্রী-সাংসদসহ মোট তিন জন প্রতিনিধি।
স্পিকার ওম বিড়লার বেঁধে দেওয়া সময়সীমার আজই ছিল শেষ দিন—তারা দলত্যাগী কি না বা কোন দলে রয়েছেন, তা স্পষ্ট করার জন্য। যখন সাংসদ পদ বাঁচানোর জন্য স্পিকারের কাছে অতিরিক্ত সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি জানাতে ব্যস্ত নেতৃত্ব, ঠিক তখনই এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নতুন অস্বস্তিতে পড়েছে দল।
ঘটনার সূত্রপাত কোথায়?
সূত্রের খবর, সরকার পক্ষের তরফ থেকে এনসিপিআই সাংসদদের জন্য হাইভোল্টেজ ব্রাজিল ম্যাচের ২০টি টিকিট পাঠানো হয়েছিল। এক সাংসদ প্রথমে সেই টিকিটগুলি নিজের সাউদার্ন অ্যাভিনিউয়ের বাসভবনে রাখেন এবং পরবর্তী সময়ে তা বারাসতের বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বার্তা দিয়ে জানানো হয়, যাদের টিকিট প্রয়োজন তারা যেন বারাসতের বাড়ি থেকে এসে সংগ্রহ করে নেন। আর এতেই ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। দূরত্বের অজুহাত ও টিকিট বণ্টনের পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে একাধিক সাংসদ গ্রুপে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এক পর্যায়ে এক জনপ্রিয় অভিনেত্রী-সাংসদসহ ৩ জন গ্রুপ ত্যাগ করেন।
কী বলছেন শতাব্দী ও রচনা?
তবে এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দল ছাড়ে প্রলেপ দিতে দ্রুত আসরে নেমেছেন সাংসদ-অভিনেত্রী শতাব্দী রায় ও রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। শতাব্দীর দাবি, “একটি ছোট ঘটনাকে অহেতুক বড় করে দেখা হচ্ছে। প্রযুক্তিগত ভুলের কারণে পুরাতন গ্রুপটি মুছে গিয়েছিল। নতুন গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে এবং সেখানে সবাই যুক্ত আছেন।”
অন্যদিকে, জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “না, সেরকম কোনো গণ্ডগোল হয়নি। আমাদের নিজেদের সুবিধার জন্যই মাঝে মাঝে গ্রুপের নাম বদল করা হচ্ছিল।” তিনি জানান, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রায় সমস্ত সাংসদই হাজির ছিলেন। অসুস্থতার কারণে কেবল কাকলি ঘোষ দস্তিদার উপস্থিত হতে পারেননি। বৈঠকে আবু তাহের, খলিলুর রহমান, শর্মিলা সরকার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ বসুনিয়া, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, বাপি হালদার ও অরূপ চক্রবর্তীর মতো শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থেকে ঐক্যের বার্তাই দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, লোকসভা সচিবালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মুখে দাঁড়িয়ে এই ধরনের টিকিট বিতর্ক ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বিভাজন এনসিপিআই-এর ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিল।