ট্রাম্পের নোবেল-জ্বর বনাম মোদির শান্তির ফর্মুলা! রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর আসল চাবিকাঠি কি ভারতের হাতে?

বিশ্বরাজনীতিতে এখন একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার তীব্র ব্যাকুলতা, আর অন্যদিকে নীরবে বিশ্বশান্তির পথ দেখানোর ভারতীয় প্রয়াস। শুল্কের হুমকি, আগ্রাসী কূটনৈতিক পদক্ষেপ কিংবা বিশ্বমঞ্চে নিজেকে শান্তিদূত প্রমাণের হিড়িক—এসবের মাঝেই স্পষ্ট হচ্ছে এক বাস্তব চিত্র। খোদ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন থেকে শুরু করে ইউক্রেন প্রশাসন—দুই পক্ষই মানছে যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত ও নিরপেক্ষ উদ্যোগটি এসেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছ থেকেই।
নোবেল সম্মান পেতে ট্রাম্প প্রশাসনের নানা চেষ্টা ও দাবির কথা আজ কারোরই অজানা নয়। তবে কোনো বড় বড় বুলি না আউড়ে ভারত অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত কমানোর ৩ দফা শান্তি প্রস্তাব পেশ করেছে। ভারতের এই নীতিতে কোনো একপাক্ষিক যুদ্ধবিরতির চাপ নেই, কিংবা যুদ্ধ বন্ধের অবাস্তব শর্তও চাপানো হয়নি। পরিবর্তে ভারত জোর দিয়েছে বাস্তবতার ওপর—শস্য পরিবহন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ এবং বাণিজ্যিক পরিকাঠামোকে যুদ্ধের আওতার বাইরে রাখা।
ভারতের এই দূরদর্শী পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধক্ষেত্রকে নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে সীমিত রাখা। খাদ্য শস্য এবং জ্বালানি চলাচল স্বাভাবিক থাকলে বিশ্বজুড়ে দুর্ভিক্ষ ও অর্থ সংকটের আঁধার ঘনীভূত হবে না। বিশ্ব অর্থনীতি যখন স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে, তখন লড়াইয়ের স্পৃহাও কমতে বাধ্য। ঠিক যেমন অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা ও চরমপন্থা দমনে ভারতের মূল অস্ত্র ছিল আর্থিক ও পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, সেই একই সফল মডেলকে আজ রাশিয়া-ইউক্রেন দ্বন্দ্ব মেটাতে প্রয়োগ করার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। অহেতুক নোবেলের কৃতিত্ব নেওয়ার প্রতিযোগিতায় না গিয়ে বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে বিশ্বকে যে ভারতই শান্তির দিশা দেখাচ্ছে, তা স্পষ্ট দুই রাষ্ট্রপ্রধানের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াতেই।