ল্যাব টেকনিশিয়ানের আকস্মিক মৃত্যুতে কাঁপছে বিশ্ব! ল্যাবেই তৈরি হচ্ছে নতুন মারণ ভাইরাস? উত্তর দিল WHO

বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর আবারও কি নামতে চলেছে এক ঘোর অমাবস্যার ছায়া? করোনাভাইরাসের ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই নতুন এক মহামারীর আতঙ্কে কাঁপছে বিশ্ব। সস্প্রতি রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলের এক উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত গবেষণাগারে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র আতঙ্ক। প্লেগ রোগের গবেষণায় যুক্ত এক ২৮ বছর বয়সী তরুণ ল্যাব টেকনিশিয়ানের আকস্মিক মৃত্যু আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছে।
জানা গিয়েছে, সাইবেরিয়ার বিখ্যাত ‘ইরকুটস্ক অ্যান্টি-প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ সাইবেরিয়া অ্যান্ড দ্য ফার ইস্ট’-এ কর্মরত ছিলেন ওই ল্যাব টেকনিশিয়ান। অত্যন্ত বিপজ্জনক জীবাণু নিয়ে কাজ করার সময় দুর্ঘটনাবশত সংক্রমিত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা। এই ঘটনার পরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— তবে কি মানব ইতিহাসে কোটি কোটি প্রাণ কেড়ে নেওয়া মধ্যযুগের সেই অভিশপ্ত ‘ব্ল্যাক ডেথ’ বা প্লেগ আবারও নতুন রূপে ফিরে আসছে?
কতটা মারাত্মক এই প্লেগ?
ইতিহাস সাক্ষী, ‘ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস’ (Yersinia pestis) নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে ছড়িয়ে পড়া এই রোগ অতীতে ইউরোপের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জনসংখ্যা সাফ করে দিয়েছিল। মূলত ইঁদুর এবং ফ্লি (এক ধরনের মাছি)-র মাধ্যমে মানুষে ছড়ায় এই জীবাণু। এটি সময়মতো শনাক্ত না হলে এবং সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা না পেলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু ঘটাতে পারে। ল্যাবরেটরি থেকে জীবাণু বাইরে ছড়িয়ে পড়লে বা ল্যাব টেকনিশিয়ানদের মাধ্যমে অন্য কারও শরীরে তা বাসা বাঁধলে নতুন মহামারীর ঝুঁকি এড়িয়ে যাওয়া যায় না।
কী জানাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)?
রাশিয়ার ঘটনার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরিস্থিতি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লেগ অত্যন্ত প্রাণঘাতী হলেও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এখন অনেক উন্নত। দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সঠিক অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে এর থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। তবে ল্যাবরেটরির বায়ো-সেফটি মান লঙ্ঘন হওয়া অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং রাশিয়ান স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই ওই ইনস্টিটিউটে কোয়ারেন্টাইন ও স্যানিটাইজেশনের কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যাতে এই সংক্রমণ সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে না পারে।