“আমার গান চুরি করে ভুল সুর দেওয়া হচ্ছে!” বাদশার পর এবার কার বিরুদ্ধে সোজা সাইবার থানায় ছুটলেন পদ্মশ্রী রতন কাহার?

কালজয়ী লোকসঙ্গীত ‘বড়লোকের বিটি লো’ নিয়ে ফের উত্তাল সঙ্গীত জগত। গানের মূল স্রষ্টা, ৯১ বছর বয়সী পদ্মশ্রীপ্রাপক প্রবীণ শিল্পী রতন কাহারের অমূল্য সৃষ্টিকে বিকৃত করা ও অনুমতি ছাড়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠল এক তরুণী গায়িকার বিরুদ্ধে। নিজের সৃষ্টির এই অনাচার সহ্য করতে না পেরে অবশেষে চরম পথ বাছলেন বীরভূমের সিউড়ির এই বর্ষীয়ান শিল্পী। সুর বিকৃতি ও স্বত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগে সোজা টেক-দৈত্য ‘মেটা’ (Meta)-র কাছে ইমেল মারফত অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি বীরভূমের সিউড়ি সাইবার থানাতেও লিখিত ডায়েরি করেছেন তিনি।

ঘটনার সূত্রে জানা গিয়েছে, তরুণী শিল্পী সৌমি মুখোপাধ্যায় সম্প্রতি রতন কাহারের এই বিখ্যাত গানটি গেয়ে নিজের নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন। অভিযোগ, গানটিতে মূল স্রষ্টার কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি, সুরকার হিসেবে রতন কাহারের নাম পর্যন্ত রাখা হয়নি এবং চরম ভুল সুরে তা পরিবেশন করা হয়েছে। এই ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রবীণ শিল্পী বলেন, “আমার গানকে পুরো বিকৃত করা হয়েছে। ভুল সুরে গাওয়া হচ্ছে, যা শুনতে ভীষণ খারাপ লাগছে। সুরকার হিসেবে নাম তো দূরের কথা, একটা অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজনও কেউ বোধ করেনি। বাধ্য হয়েই আমি মেটা ও সাইবার পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি।”

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে রতন কাহার এই বিখ্যাত গানটি রচনা করেন, যা পরে ১৯৭৬ সালে স্বপ্না চক্রবর্তীর কণ্ঠে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। এর আগে ২০২০ সালে বলিউড র‍্যাপার বাদশা ও অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজের ‘গেন্দা ফুল’ গানে এই গানের অংশবিশেষ অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করায় দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। সেসময় তুমুল বিতর্কের মুখে পড়ে রতন কাহারকে ৫ লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টির রফা করেন বাদশা।

ভাদু, ঝুমুর ও বাংলা লোকসঙ্গীতে বিশেষ অবদানের জন্য গত ২০২৪ সালে ভারত সরকারের তরফ থেকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত হন রতন কাহার। কিন্তু বয়সের এই শেষ কোঠায় এসেও বারবার নিজের সৃষ্টির এমন বাণিজ্যিক অপব্যবহার দেখে গভীরভাবে ব্যথিত তিনি। এবার আর কোনও আপস নয়, নিজের সম্মান ও সৃষ্টির অধিকার রক্ষায় একবারে কড়া আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটছেন এই বর্ষীয়ান লোকশিল্পী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *