মেসেজ সিন করে এড়িয়ে যাওয়ার অভ্যেস? সামান্য এই টেক-ভুলের জেরে ভেঙে যেতে পারে ভালোবাসার সম্পর্ক!

ব্লু টিক এল অথচ উত্তর নেই! চ্যাটবক্সের ‘লেট রিপ্লাই’ কীভাবে আপনার সম্পর্ককে এক অদৃশ্য মানসিক যন্ত্রণায় ফেলছে?
আজকের ডিজিটাল যুগে ভালোবাসার প্রকাশ থেকে শুরু করে মনের কথা আদান-প্রদান—সবকিছুরই মাধ্যম হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া ও চ্যাটিং অ্যাপ। কিন্তু এই হাই-টেক দুনিয়ায় কারও মেসেজ দেখার পর অর্থাৎ ‘ব্লু টিক’ (Blue Tick) আসার পরেও যদি অপর প্রান্ত থেকে কোনো উত্তর না আসে, তবে তা অনেক সময়েই মনের ভেতর এক অদ্ভুত অস্থিরতা তৈরি করে। চ্যাটবক্স যেন তখন প্রেম-ভালোবাসার ঠিকানা না হয়ে এক কঠিন ‘ডিজিটাল কোর্ট রুম’ হয়ে দাঁড়ায়, যেখানে একে অপরকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে শুরু হয় জেরা!
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগেকার দিনে চিঠিপত্রের যুগে উত্তরের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষা করতে হতো, যার মধ্যে এক ধরনের মিষ্টি সবুর ও মাধুর্য লুকিয়ে ছিল। কিন্তু বর্তমানের ‘ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং’ ও ‘ரீড রিসিট’ (Read Receipt)-এর যুগে চোখের পলকে মেসেজ পৌঁছে যাওয়ার কারণে মানুষের ধৈর্য অনেকটাই কমে গিয়েছে। চ্যাট স্ক্রিনে সামনে থাকা মানুষটি অনলাইনে রয়েছে দেখা সত্ত্বেও যখন সঙ্গে সঙ্গে রিপ্লাই আসে না, তখন থেকেই মনে নানা নেতিবাচক চিন্তা এবং মানসিক চাপ দানা বাঁধতে শুরু করে।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণাতেও উঠে এসেছে যে, লেট রিপ্লাই বা মেসেজ দেখেও এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা মানুষের মধ্যে মানসিক উদ্বেগ (Anxiety) মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। মনোবিদদের পরামর্শ, এই ধরনের ছোটখাটো বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত সন্দেহ বা মানসিক টেনশন না করে, প্রয়োজনে সঙ্গীর সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলা উচিত। কারণ ব্যস্ততা বা কাজের চাপের কারণেও অনেক সময় সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই প্রযুক্তির এই ফাঁদে পা দিয়ে সম্পর্কের মাধুর্যতা নষ্ট না করে একটু ধৈর্য ধরা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বজায় রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।