দেশে সবচেয়ে বেশি মাওবাদী নেটওয়ার্ক! বোম্বে হাইকোর্টে বিস্ফোরক দাবি করে বড় সাফাই দিল মহারাষ্ট্র সরকার

‘মুম্বই-মহারাষ্ট্র কি তবে মাওবাদের সেফ জোন?’ বোম্বে হাইকোর্টে কড়া অবস্থান রাজ্য সরকারের
রাজ্যে ক্রমবর্ধমান উগ্রপন্থী ও ‘শহরী মাওবাদী’ (Urban Maoist) নেটওয়ার্কের উপস্থিতি নিয়ে এবার বোম্বে হাইকোর্টে কড়া অবস্থান স্পষ্ট করল মহারাষ্ট্র সরকার। রাজ্য বিশেষ জন সুরক্ষা আইন (MSPSA)-এর সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার প্রেক্ষিতে আদালতে একটি বিশদ ও গুরুত্বপূর্ণ হলফনামা পেশ করেছে প্রশাসন। সরকারের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই বিশেষ আইনের অত্যন্ত প্রয়োজন রয়েছে।
আদালতে পেশ করা তথ্যে বলা হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সংগ্রহ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে মহারাষ্ট্রেই সবচেয়ে বেশি প্রায় ৬৪টি সক্রিয় ফ্রন্টাল বা সহযোগী সংগঠন কাজ করছে। দেশের অন্য যেকোনো রাজ্যের তুলনায় এই সংখ্যাটি অনেক বেশি, যা রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, এই ধরনের অসামাজিক, ধ্বংসাত্মক এবং উগ্রবাদী তৎপরতা কঠোরহস্তেই দমন করা উচিত।
উল্লেখ্য, গত বছর রাজ্য বিধানসভায় এই আইনটি পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এতে অনুমোদন দিয়েছিলেন। তবে এই আইনের বেশ কিছু ধারা ও নির্বাহী ক্ষমতা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে কংগ্রেস, সিপিআই (CPI) এবং বেশ কিছু সমাজকর্মী হাইকোর্টের দারস্থ হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই আইনের মাধ্যমে কার্যনির্বাহী সংস্থাকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, সরকারের কড়া যুক্তি— মৌলিক অধিকার এবং দেশের অখণ্ডতা রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই এই কঠোর আইন আনা হয়েছে। আগামী দিনে এই মামলার শুনানি ঘিরে আইনি ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।