রাস্তায় শুয়ে তীব্র প্রতিবাদ! মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইন্ডি জোটের মিছিলে ধুন্ধুমার কাণ্ড

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে ইন্ডি (INDIA) জোটের দিল্লি চলো আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বুধবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজধানী। মঙ্গলবার আকাশবাণী ভবনে দীর্ঘ ৯ ঘণ্টার ধর্না অবস্থানের পর এদিন দুপুরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজ সেরে যন্তর মন্তরের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা শুরু করেন বিরোধী সাংসদরা। তবে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিরোধী নেতাদের মধ্যে ব্যাপক ধস্তাধস্তি এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদ চলাকালীন দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে গায়ে হাত তোলার এবং শারীরিক হেনস্থার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা।

এদিন দুপুরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের মধ্যাহ্নভোজের পর বিরোধী সাংসদরা বাসে চেপে যন্তর মন্তরের দিকে রওনা হন। অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং, দীপেন্দর সিং হুডা, ইমরান প্রতাপগড়ী এবং বি ভি শ্রীনিবাসের মতো শীর্ষস্থানীয় কংগ্রেস নেতারা বাসের ছাদে উঠে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে স্লোগান দিতে শুরু করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মিছিলটি মাত্র এক কিলোমিটার এগোতেই অশোকা রোডে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় দিয়ে বাসগুলি আটকে দেয়।

এর পরই শুরু হয় ব্যাপক ধড়পাকড়। পুলিশ লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলে। ঠিক সেই মুহূর্তেই রাস্তার ওপর বসে পড়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। পুলিশের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “পুলিশ কর্মীরা জোর করে আমাকে মাটিতে আছড়ে ফেলেছে এবং আমার গা-হাত-পা খামচে দিয়েছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকার ও পুলিশ কেমন অমানবিক আচরণ করছে, আজ তা গোটা দেশ দেখুক।”

উল্লেখ্য, এই বিক্ষোভে কংগ্রেস ছাড়াও তৃণমূল কংগ্রেস (TMC), সিপিআই(এম), সিপিআই, আরজেডি এবং আইইউএমএল-এর মতো প্রধান বিরোধী দলগুলির প্রতিনিধিরা অংশ নিলেও সমাজবাদী পার্টির (SP) সাংসদদের এই মিছিলে অনুপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলির এই সম্মিলিত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে রাজনৈতিক অঙ্গন আরও উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *