ব্রাশ করার সময় মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ে? শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে বড় বিপদের মুখে পড়ছেন!

আধুনিক জীবনযাত্রার ব্যস্ততা আর অনিয়মিত খাওয়াদাওয়ার জেরে আমাদের শরীরে পুষ্টির ভারসাম্য প্রায়শই বিঘ্নিত হয়। ক্লান্তি বা দুর্বলতাকে আমরা অনেকেই সাধারণ বিষয় বলে এড়িয়ে যাই, কিন্তু এর নেপথ্যে প্রায়ই লুকিয়ে থাকে কোনো না কোনো ভিটামিনের অভাব। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করা থেকে শুরু করে কোলাজেন তৈরি এবং ত্বক সুস্থ রাখতে ভিটামিন ‘সি’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু অনেক সময় ডায়েটে অবহেলার কারণে শরীরে এই ভিটামিনের মাত্রা কমতে শুরু করে, যা বেশ কিছু স্পষ্ট লক্ষণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
ভিটামিন ‘সি’ একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা আমাদের কোষকে সতেজ রাখতে এবং ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। শরীরে এর ঘাটতি দেখা দিলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
ভিটামিন ‘সি’-র ঘাটতির ৭টি প্রধান লক্ষণ:
১. মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া: ব্রাশ করার সময় বা এমনিতেই মাড়ি থেকে রক্তপাত হওয়া ভিটামিন ‘সি’-র ঘাটতির অন্যতম ক্লাসিক ও প্রধান লক্ষণ।
২. ত্বক প্রাণহীন ও রুক্ষ হয়ে যাওয়া: কোলাজেন উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় ত্বক তার প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ও দীপ্তি হারিয়ে ফেলে, ফলে ত্বক খুব দ্রুত শুষ্ক ও মলিন হয়ে পড়ে।
৩. সহজে ক্ষত না শুকানো: শরীরে কোথাও কেটে বা ছড়ে গেলে তা যদি সারতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় নেয়, তবে বুঝবেন শরীরে ভিটামিন ‘সি’-র অভাব রয়েছে।
৪. অকারণে গায়ে নীলচে দাগ হওয়া: সামান্য ধাক্কা লাগলেই যদি চামড়ার নিচে রক্তনালী ফেটে গিয়ে গায়ে কালচে বা নীলচে দাগ পড়ে যায়, তবে এটি এই ভিটামিনের ঘাটতির বড় সঙ্কেত।
৫. সন্ধি ও জয়েন্টে ব্যথা: হাড় ও জয়েন্টের সংযোগস্থলে তীব্র ব্যথা বা প্রদাহ দেখা দেওয়া ভিটামিন ‘সি’ অভাবের ফল হতে পারে।
৬. সামান্যতেই অসুস্থ হয়ে পড়া: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে সামান্য আবহাওয়া পরিবর্তন বা ঠান্ডাতেই সর্দি-কাশি কিংবা বিভিন্ন সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।
৭. চুলের গঠন দুর্বল হয়ে যাওয়া: চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া এবং চুলের ডগা ফেটে যাওয়ার পেছনেও এই বিশেষ ভিটামিনের ঘাটতি অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করে।
ভিটামিন ‘সি’-র ঘাটতি পূরণের সেরা উপায়:
শরীরের এই পুষ্টির চাহিদা মেটাতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে টক জাতীয় ফল ও টাটকা শাকসবজি রাখা উচিত। পাতিলেবু, কমলালেবু, মুসাম্বি, আমলকি, পেয়ারা, কিউই এবং ক্যাপসিকাম বা ব্রকোলির মতো খাবার নিয়মিত ডায়েটে রাখলে প্রাকৃতিকভাবেই ভিটামিন ‘সি’-র ঘাটতি দূর করা সম্ভব। তবে সমস্যা যদি দীর্ঘস্থায়ী বা মারাত্মক আকার ধারণ করে, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।