‘আজ আমি মেরেই যেতাম!’ মধ্যরাতে অ্যাপ ক্যাবে বীভৎস অভিজ্ঞতার শিকার ‘বাঘিনী’র নায়িকা

শ্যুটিং সেরে অ্যাপ ক্যাবে চেপে বাড়ি ফেরার পথে এক ভয়াবহ ও আতঙ্কজনক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন ‘বাঘিনী’ খ্যাত জনপ্রিয় টেলি অভিনেত্রী সম্পিতা প্রামাণিক। জি বাংলার এই ধারাবাহিকটিতে ‘মহুয়া’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকমহলে পরিচিতি লাভ করেছেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে ক্যাব চালকের অসৌজন্যমূলক আচরণ, ছিনতাইয়ের চেষ্টা এবং হেনস্থার শিকার হতে হয় তাঁকে। ঘটনার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ এসে চোখের জলে পুরো ঘটনাটি তুলে ধরেন অভিনেত্রী।

ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে?

সোশ্যাল মিডিয়া লাইভে সম্পিতাকে অত্যন্ত আতঙ্কিত অবস্থায় হাজরা মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। হাত-পা কাঁপতে থাকা অবস্থায় তিনি বলেন, “আজ আমি মেরেই যেতাম!”

  • গন্তব্য বদল ও বচসা: অভিনেত্রী জানান, পার্ক স্ট্রিটে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা থাকলেও শ্যুটিংয়ের লেট কল ও বৃষ্টির জন্য তিনি অ্যাপ ক্যাবে গন্তব্য বদলে দমদমের বাড়ির ঠিকানা করেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি দেখে রবীন্দ্র সরোবরের কাছেই নেমে যাওয়ার কথা বললে ক্যাব চালক গাড়ি থামাতে অস্বীকৃতি জানান।

  • পুরো ভাড়ার দাবি ও ব্যাগ নিয়ে চম্পট: বহু অনুরোধের পর রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশনের কাছে গাড়ি থামলেও শুরু হয় আসল ঝামেলা। দমদম পর্যন্ত পুরো ভাড়াই মেটাতে হবে—এই দাবি তুলে চালক তর্ক শুরু করেন। সম্পিতা যতটুকু এসেছেন ততটুকুর ভাড়া দিতে চাইলে মেজাজ হারান চালক। অভিনেত্রী গাড়ি থেকে নামতেই তাঁর শ্যুটিংয়ের ভারী ব্যাগ সহ গাড়ি ছুটিয়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে চালক।

  • মাঝরাস্তায় তাড়া ও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা: নিজের জিনিসপত্র বাঁচাতে মাঝরাস্তায় ক্যাবের পিছনে দৌড়াতে বাধ্য হন সম্পিতা। যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল বলে জানান তিনি।

অ্যাপ সেফটি ও প্রশাসনের কাছে ক্ষোভ

ক্যাবে থাকা অবস্থায় তিনি টানা অ্যাপের ‘সেফটি ফিউচারে’ যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও সংস্থাটির পক্ষ থেকে কোনো সাহায্য বা সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ তুলেছেন সম্পিতা। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা এগিয়ে এসে অভিনেত্রীকে জল খাইয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও ভীত অভিনেত্রী চালকের নাম এবং গাড়ির নম্বর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনায় তিনি কালীঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন। তিলোত্তমায় তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে এভাবে বারবার প্রশ্ন ওঠা সত্যিই উদ্বেগের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *