পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও কেন কাটছে না ক্লান্তি? শরীর সুস্থ রাখতে ৩০ পেরোলেই এই জরুরি ব্লাড টেস্টগুলি করান!

লাইফস্টাইল আপডেট: পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও কি শরীরে সবসময় ক্লান্তি লেগেই থাকে? ৩৫-এর পর মহিলাদের যে বিশেষ ব্লাড টেস্টগুলি করানো অত্যন্ত জরুরি
বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক চাপের জেরে কমবেশি সকলেই কমবেশি ক্লান্তিতে ভোগেন। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরেও যদি আপনার শরীরে শক্তি না ফেরে এবং সারাদিন একটা ঝিমুনি ভাব বা ক্লান্তি লেগেই থাকে, তবে তা সাধারণ অলসতা বলে এড়িয়ে যাওয়ার ভুল করবেন না। চিকিৎসকদের মতে, বিশেষ করে বয়স যখন ৩৫ বা তার বেশি, তখন এই ধরনের লক্ষণ শরীরের অন্দরে লুকিয়ে থাকা কোনো বড় শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।
৩৫-এর পর মহিলাদের যে রক্ত পরীক্ষাগুলি করানো অত্যন্ত প্রয়োজন:
-
থাইরয়েড প্রোফাইল (TSH, T3, T4): মহিলাদের মধ্যে থাইরয়েডের সমস্যা অত্যন্ত কমন। থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যে বিঘ্ন ঘটলে মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়, যার ফলে সারাদিন চরম ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি এবং অবসাদ দেখা দিতে পারে।
-
সিবিসি এবং হিমোগ্লোবিন (CBC & Iron Profile): ঋতুচক্রজনিত কারণে বা পুষ্টির অভাবে মহিলাদের রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেশি থাকে। শরীরে হিমোগ্লোবিন বা আয়রনের মাত্রা কমে গেলে সামান্য পরিশ্রমেই শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং মাথা ঘোরে।
-
ব্লাড সুগার টেস্ট (HbA1c / Fasting Blood Sugar): ডায়াবেটিসের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময়ই স্পষ্ট কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না, কিন্তু রক্তে শর্করার মাত্রা সামান্য এদিক-ওদিক হলেই শরীর অতিরিক্ত ক্লান্ত বোধ করতে পারে।
-
লিপিড প্রোফাইল (Lipid Profile): কোলেস্টেরল বা ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়লেও হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ পড়ে এবং শরীর সবসময় দুর্বল অনুভূত হতে পারে।
শারীরিক এই সংকেতগুলিকে অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্লাড টেস্ট করিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে, যাতে বড় কোনো রোগ দানা বাঁধার আগেই সতর্ক হওয়া যায়।