জঙ্গল বাঁচাতে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত! ৩১ কিমি চওড়া রাস্তায় তৈরি হচ্ছে ৫টি বিশাল আন্ডারপাস!

উপরে ছুটবে গাড়ি, নীচ দিয়ে যাবে হাতির পাল! বন্যপ্রাণ রক্ষায় উত্তরবঙ্গের জাতীয় সড়কে তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক আন্ডারপাস

জঙ্গল বদলেছে, জঙ্গলের বুক চিরে তৈরি হয়েছে পাকা রাস্তা আর বেড়েছে গাড়ির গতিও। কিন্তু প্রজন্ম ধরে চলে আসা হাতিদের চলাচলের চেনা পথ এক বিন্দুও বদলায়নি। উত্তরবঙ্গে উন্নয়নের গতির সঙ্গে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচলের সংঘাত এড়াতে এ বার এক যুগান্তকারী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ করল প্রশাসন। জাতীয় সড়কের উপর দিয়ে ঝড়ের বেগে ছুটবে চার লেনের গাড়ি, আর তার নীচ দিয়েই নিরাপদে জঙ্গল থেকে অন্য জঙ্গলে যাতায়াত করবে বন্যপ্রাণীর পাল।

কোথায় এবং কীভাবে তৈরি হচ্ছে এই পরিকাঠামো? বাগডোগরা থেকে নকশালবাড়ি হয়ে পানিট্যাঙ্কি পর্যন্ত ৩২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের প্রায় ৩১ কিলোমিটার অংশ চার লেনে সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এই মেগা প্রকল্পের মধ্যেই হাতিদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য পাঁচটি অত্যাধুনিক আন্ডারপাস তৈরির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। সব মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৭৬৫ মিটার দীর্ঘ এই পাঁচটি পথ উত্তরবঙ্গের অত্যন্ত সংবেদনশীল হাতি করিডরগুলিকে নিরাপদ রাখার লক্ষ্যেই নির্মিত হচ্ছে।

  • কোথায় কোন আন্ডারপাস? পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাগডোগরার সন্ন্যাসী চা বাগান মোড়ে প্রায় ৩১৫ মিটার, নকশালবাড়ির কিরণচন্দ্র চা বাগান এলাকায় সবচেয়ে বড় প্রায় ৭০০ মিটার, দেউমনিতে ৪৯০ মিটার, অটল চা বাগানে ৬০ মিটার এবং খড়িবাড়ির পানিট্যাঙ্কিতে প্রায় ২০০ মিটার দীর্ঘ আন্ডারপাস তৈরি করা হবে।

  • পরিমাপ: প্রতিটি আন্ডারপাসের উচ্চতা রাখা হচ্ছে প্রায় ৭ মিটার এবং প্রস্থ ২২ মিটার, যাতে একসঙ্গে একাধিক হাতি বা পুরো পাল খুব সহজেই স্বাভাবিক গতিতে পথ পার হতে পারে।

দুর্ঘটনা এড়াতে বিশেষ প্রযুক্তি ও নজরদারি: বন দফতর এবং বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, রাস্তা পার হওয়ার সময় হাতিদের সঙ্গে গাড়ির সংঘর্ষ বা দীর্ঘ যানজটের সমস্যা এড়াতে এই পরিকাঠামো দারুণ ভূমিকা রাখবে। হাতিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে কেবল আন্ডারপাস তৈরিই নয়, যুক্ত করা হচ্ছে একাধিক আধুনিক প্রযুক্তি:

  • সাউন্ডপ্রুফ ব্যারিয়ার: গাড়ির হর্ন ও ইঞ্জিনের বিকট শব্দে হাতি যাতে আতঙ্কিত না হয়, তার জন্য থাকবে বিশেষ সাউন্ডপ্রুফ ব্যারিয়ার।

  • সজাগ নজরদারি: সিসিটিভি ক্যামেরা, সেন্সর-ভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা, ওয়াচ টাওয়ার, এবং ইকো-সেন্সিটিভ ফেন্সিংয়ের মাধ্যমে পুরো এলাকার ওপর ২৪ ঘণ্টা কড়া নজর রাখবে বন দফতর।

পরিবেশকর্মী ও বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘদিনের দাবির পর নেওয়া এই পদক্ষেপে একদিকে যেমন দ্রুতগতির যান চলাচল ব্যাহত হবে না, তেমনই উত্তরবঙ্গের বন্যপ্রাণীরাও তাদের শত বছরের পুরনো করিডরে পাবে সুরক্ষিত ও নিরাপদ যাতায়াতের ঠিকানা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *