“AI-নামেই ছোঁয়া যাবে না!”-ট্রাম্পের কড়া আদেশে নাম বদলালেন ধনকুবের ইলন মাস্ক?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির প্রচলিত নাম বদলে একে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ (Super Intelligence) বা ‘এসআই’ (SI) করার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে পুরোপুরি তাল মেলালেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক। ট্রাম্পের এই নতুন নির্দেশনার পরেই নিজের কোম্পানির নাম পরিবর্তনের যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ফোর্বস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহেই ডনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। ওই আদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত ফেডারেল বিভাগ ও সংস্থাকে তাদের দাপ্তরিক যোগাযোগে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ ও এর সংক্ষিপ্ত রূপ ‘এসআই’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই নির্বাহী আদেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, নির্বাহী বিভাগ এখন থেকে সংশ্লিষ্ট যেকোনো ক্ষেত্রে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এআই’ শব্দের ব্যবহার আর কখনোই ‘স্বীকৃতি দেবে না’। ট্রাম্পের মতে, “আজকের এআই সিস্টেমগুলো মানুষের বুদ্ধিমত্তার দিকগুলোকে অনুকরণ বা স্বয়ংক্রিয় করার চেয়ে অনেক বেশি কিছু করেছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স শব্দটি প্রথম যখন প্রচলনে এসেছিল, তখনকার ধারণাকে বহু পেছনে ফেলে এসেছে নতুন এই প্রযুক্তিগুলো।”

স্পেসএক্সএআই থেকে নাম বদল করে হলো ‘স্পেসএক্সএসআই’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই দাবির পরপরই নিজের স্পেসএক্সএআই (SpaceXAI)-এর নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেসএক্সএসআই’ (SpaceXSI) রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ইলন মাস্ক। তাঁর মতে, নতুন এই ‘এসআই’ নামটি আগেরটির চেয়ে ‘আরও অনেক বেশি ভালো’। তবে এই নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দিলেও এটি কবে নাগাদ পুরোপুরি কার্যকর হবে কিংবা এ নিয়ে অন্য কোনো অতিরিক্ত তথ্য দেননি মাস্ক। এমনকি এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্পেসএক্সএআই-এর অফিসিয়াল এক্স (ধত) অ্যাকাউন্টটির নামও পরিবর্তন করা হয়নি। রয়টার্সের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধ করা হলেও কোম্পানির তরফ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

যেভাবে এলো ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ ধারণাটি?

গত মাসেই নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ নাম পরিবর্তনের এই ধারণার সূত্রপাত ঘটিয়েছিলেন ডনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে তিনি একটি জনমত জরিপে ব্যবহারকারীদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে, এআই-এর নাম বদলে তারা ‘সুপ্রিম ইন্টেলিজেন্স’, ‘এক্সট্রিম ইন্টেলিজেন্স’ নাকি ‘সুপারিয়র ইন্টেলিজেন্স’ রাখতে চান। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, অনেকেই মনে করেন ‘এআই’ একটি অত্যন্ত অনির্দিষ্ট ও অমার্জিত শব্দ।

পরবর্তীতে একাধিক ধাপের অনলাইন ভোটের পর শেষ পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা সংক্ষিপ্ত রূপ ‘এসআই’। এদিকে ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর থেকেই স্লোভেনিয়ার ওয়েবসাইটগুলোর জন্য ব্যবহৃত ‘ডটএসআই’ (dot.si) ডোমেইনের চাহিদা অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে গেছে। রেজিস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে ডটএসআই-এ প্রায় ৪৪ হাজার নতুন ওয়েবসাইট রেজিস্টার্ড হয়েছে, যা আগস্ট মাসের তুলনায় প্রায় ২ হাজার ১৯৯ শতাংশ বেশি!

হোয়াইট হাউসে মেগা বৈঠক ও নতুন চুক্তি

এদিকে গত সপ্তাহেই হোয়াইট হাউসে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এআই কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইলন মাস্ক স্বয়ং, মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গ, অ্যামাজনের জেফ বেজোস, এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং, অ্যানথ্রপিকের দারিও আমোদেই, গুগলের সুন্দার পিচাই এবং প্যালান্টিরের অ্যালেক্স কার্প।

ওই বৈঠকে ট্রাম্প ও এআই জগতের শীর্ষ কর্তারা যৌথভাবে ‘হোয়াইট হাউস অ্যাকর্ড অন সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। এআই কোম্পানিগুলোর জন্য স্বেচ্ছায় কিছু সুরক্ষা বলয় বা গার্ডরেল তৈরি করতেই এই চুক্তি করা হয়েছে। চুক্তির মূল বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে—সাইবার নিরাপত্তা, জৈব নিরাপত্তা ও রাসায়নিক হুমকি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং মডেলগুলি যাতে ‘অনিচ্ছাকৃত উপায়ে কোনো হ্যাকিং বা প্রযুক্তিগত সিস্টেমে প্রবেশ না করে’ তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি, সমস্ত নিয়ন্ত্রণ ও পর্যালোচনামূলক প্রক্রিয়া সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা যাচাই করতে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রিভিউ চালু রাখার কথাও বলা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, ট্রাম্প সম্প্রতি ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’ নামে সম্পূর্ণ নতুন একটি বিশেষ দল গঠনেরও ঘোষণা দিয়েছেন। এই বিশেষ বাহিনীকে ‘ফেডারেল সরকারের প্রচেষ্টার সমন্বয় সাধনের দায়িত্ব দেওয়া হবে, যাতে বিশ্বজুড়ে সুপার ইন্টেলিজেন্সের দৌড়ে আমেরিকা তাদের নেতৃত্ব বজায় রাখতে পারে।’ জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালকসহ প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে এই বিশেষ বাহিনী পরিচালিত হবে। এখন দেখার বিষয়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই কঠোর নির্দেশিকা এবং নতুন ব্র্যান্ডিংয়ের ঢেউ বিশ্বজুড়ে বাকি এআই জায়ান্টরাও অনুসরণ করে কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *