কফ সিরাপ কাণ্ডে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত! বড়সড় গাফিলতির অভিযোগে বরখাস্ত হওয়ার পর ফের চাকরিতে ফিরলেন অফিসাররা?

২৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড়! বরখাস্ত হওয়ার মাস কয়েকের মধ্যেই ফের চাকরিতে বহাল দুই ড্রাগ ইন্সপেক্টর
মধ্যপ্রদেশের বহুল আলোচিত ও মর্মান্তিক কফ সিরাপ কাণ্ডে সামনে এল অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর এক তথ্য। বিষাক্ত ‘কোল্ডরিফ’ (Coldrif) কফ সিরাপ খাওয়ার ফলে রাজ্যের ছিন্দওয়াড়া জেলায় প্রায় ২৬ জন শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। এই ভয়াবহ ঘটনার পর প্রশাসনিক স্তরে তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিবাদের জেরে দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতির অভিযোগে দুই ড্রাগ ইন্সপেক্টরকে সাসপেন্ড বা বরখাস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ওই অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে ফের চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আসতেই নিহত শিশুদের পরিবার এবং স্থানীয় মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কীভাবে এত বড় ট্র্যাজেডির পরেও অভিযুক্ত সরকারি কর্তারা পুনরায় নিজেদের পদে ফিরে গেলেন, তা নিয়ে এখন নীতি ও আইনগত প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঘটনার প্রধান দিকগুলি:
-
কফ সিরাপের বিষক্রিয়া: ল্যাব টেস্টে কফ সিরাপটিতে অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক ‘ডাইথাইলিন গ্লাইকল’ (DEG)-এর উপস্থিতি মিলতেই দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছিল।
-
নিলম্বন থেকে পুনর্বহাল: শিশুদের মৃত্যুর জেরে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে যে দুই ড্রাগ ইন্সপেক্টরকে বরখাস্ত করা হয়েছিল, তাঁদের পুনরায় চাকরিতে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে।
-
আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ: ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির মালিক ও বেশ কয়েকজন চিকিৎসকসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, আধিকারিকদের এই পুর্নবহাল ঘিরে প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়েছে প্রশাসন।
প্রশাসনের অন্দরে এই ধরনের স্বজনপোষণ বা নমনীয় মনোভাব আগামী দিনে বিচারপ্রক্রিয়াকে কতটা প্রভাবিত করবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।