সরকারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছেন ফরাসি ছাত্ররা! ১৯৬-এর ছায়া কি তবে ফের কাঁপাতে চলেছে গোটা বিশ্বকে?

ইউরোপের রাজনীতিতে আবারও এক বড়ো সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। ফ্রান্সের বুকে দানা বাঁধতে শুরু করেছে তীব্র ছাত্র অসন্তোষ, যা উসকে দিয়েছে ১৯৬৮ সালের সেই ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলন ও শ্রমিক ধর্মঘটের স্মৃতি। সেবার ফ্রান্সে যে অভূতপূর্ব গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা শুধু দেশকেই কাঁপিয়ে দেয়নি, বরং গোটা ইউরোপের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে ফরাসি যুবসমাজ ও ছাত্রছাত্রীদের রাজপথে নেমে আসার ঘটনায় ফের একবার সেই পুরোনো ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা বর্তমান নীতি ও ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে রাস্তায় নামতে শুরু করেছেন। ফরাসি সরকারের একাধিক নীতির প্রতিবাদে যুবসমাজের এই স্বতঃস্ফূর্ত উত্থান দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। আন্দোলন যেভাবে দানা বাঁধছে, তাতে আগামী দিনে তা বড় কোনো জাতীয় সংকটের রূপ নিতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আন্দোলনের নেপথ্য কারণ ও প্রভাব:
-
ঐতিহাসিক স্মৃতির রোমন্থন: ১৯৬-এর মে মাসের সেই বিখ্যাত বিপ্লবের পর ফ্রান্সে এমন সুসংগঠিত ছাত্র আন্দোলনের মুখ দেখেনি রাজনৈতিক মহল।
-
সরকারের ওপর চাপ: শিক্ষাক্ষত্রের বেহাল দশা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের অভাবের মতো একাধিক জ্বলন্ত সমস্যা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
-
আন্তর্জাতিক প্রভাব: ফ্রান্সের এই ছাত্র বিক্ষোবের আঁচ ধীরে ধীরে ইউরোপের অন্যান্য দেশের তরুণ সমাজেও ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ফ্রান্সের এই নতুন ছাত্র আন্দোলন আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে এবং সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।