জমিসংকট কাটবে? শিল্প টানতে রাজ্যে এবার ‘ল্যান্ড পুলিং’ ও বিরাট ‘ল্যান্ড ব্যাঙ্ক’-এর যুগান্তকারী মাস্টারস্ট্রোক!

রাজ্যে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের পথ আরও মসৃণ করতে নতুন জমি নীতি প্রণয়নের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। পুরোনো ধাঁচের জটিল জমি অধিগ্রহণের পদ্ধতি এড়িয়ে শিল্প স্থাপনের জন্য এক সম্পূর্ণ নতুন ও সময়োপযোগী রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বিনিয়োগ টানতে জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলি দূর করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, নতুন এই নীতিতে জমি অধিগ্রহণের ঝঞ্ঝাট এড়িয়ে সরাসরি জমি কেনা এবং ‘ল্যান্ড পুলিং’ ব্যবস্থার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে শিল্প সংস্থাগুলি সরাসরি জমির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সহজে জমি সংগ্রহ করতে পারবে। পাশাপাশি, একাধিক ছোট মালিকের জমিও একত্রিত করে বৃহৎ শিল্প বা শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উপযুক্ত করে তোলার অভিনব বন্দোবস্ত থাকছে ‘ল্যান্ড পুলিং’ মডেলে।
শিল্পের প্রসারে একটি বিশাল ‘ল্যান্ড ব্যাঙ্ক’ তৈরির পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি সংস্থা, রুগ্ণ এবং নিষ্ক্রিয় বেসরকারি শিল্প সংস্থার পড়ে থাকা বিশাল পরিমাণ অব্যবহৃত জমিও এই ল্যান্ড ব্যাঙ্কের আওতায় আনা হতে পারে। বিশেষ করে বন্ধ হয়ে যাওয়া জুট ও কটন মিলগুলির অব্যবহৃত জমিও চিহ্নিত করে তা পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
এছাড়া বহু পুরনো শিল্পজমি বর্তমানে বিভিন্ন আইনি মামলা বা জবরদখলের জট আটকে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনি জটিলতা দ্রুত মিটিয়ে সেই জমিগুলিকে শিল্প ও বিনিয়োগের উপযোগী করে তোলার জন্য ‘প্রজেক্ট ভূমিশক্তি’-র মতো উদ্যোগ এবং এক জানালা বা ‘ওয়ান উইন্ডো সিস্টেম’-এর মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটিকে স্বচ্ছ ও দ্রুত করার রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে, রাজ্যের নতুন এই ভূমি নীতি বাংলার শিল্প ও কর্মসংস্থানের মানচিত্রে এক সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন আনতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।