আশা জাগিয়েও কমল পদক সংখ্যা! এশিয়ান গেমসের পারফরম্যান্স নিয়ে যা বললেন ভারতের প্রথম সোনাজয়ী অ্যাথলেট

আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস ২০২৬ (Asian Games 2026)-এ ভারতের অভিযান শেষ হওয়ার পরেই দেশের হাই-পারফরম্যান্স প্রোগাম বা উচ্চ-কার্যক্ষমতা সম্পন্ন ক্রীড়া পরিকাঠামো নিয়ে কঠোর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের দাবি তুললেন দেশের প্রথম ব্যক্তিগত অলিম্পিক সোনাজয়ী অ্যাথলেট অভিনব বিন্দ্রা (Abhinav Bindra)। তাঁর মতে, লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকস (LA Olympics 2028) শুরু হতে আর দু’বছরেরও কম সময় বাকি, আর অলিম্পিক ক্রীড়ার দুনিয়ায় এই সময়টা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। তাই মেগা ইভেন্টের প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
এশিয়ান গেমসে ভারতের পারফরম্যান্স কেমন ছিল?
চলতি এশিয়ান গেমসে ভারতের সামগ্রিক পারফরম্যান্স যথেষ্ট ভালো হলেও তা প্রত্যাশার সম্পূর্ণ মাত্রা ছুঁতে পারেনি। প্রতিযোগিতায় ভারত মোট ৮৫টি পদক অর্জন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ২১টি সোনা, ২৭টি রুপো এবং ৩৭টি ব্রোঞ্জ। পদক তালিকার শীর্ষস্থান দখল করা চিন, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ঠিক পরেই চতুর্থ স্থানে থেকে নিজেদের অভিযান শেষ করেছে ভারত।
যদিও একাধিক ডিসিপ্লিনে বেশ কিছু তরুণ ও নতুন ক্রীড়াবিদ অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নজর কেড়েছেন, তবুও গত চিনের হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে ভারতের জেতা ১০৬টি পদকের রেকর্ডের তুলনায় এবারের সামগ্রিক পদক সংখ্যা কিছুটা কমেছে। এশিয়ান গেমসে আধিপত্য বজায় রেখে ৩৪১টি পদক (যার মধ্যে ১৬৯টি সোনা) জিতে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে চিন। এছাড়া ২৬৯টি পদক নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে জাপান এবং ১৫০টি পদক নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
ঠিক কী বার্তা দিয়েছেন অভিনব বিন্দ্রা?
নিজের এক্স (পূর্বের টুইটার) হ্যান্ডলে একটি দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করে বিন্দ্রা অ্যাথলেট, তাঁদের পরিবার, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ এবং ভারতীয় সরকারকে তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য সাধুবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, এশিয়ান গেমসের ভুলত্রুটিগুলি থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন থেকেই ২০২৮ অলিম্পিকের জন্য প্রস্তুতি শুরু করা দরকার।
বিন্দ্রা তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “হাই-পারফরম্যান্স শুধু তখনই হওয়া উচিত নয় যখন কোনো অ্যাথলেট পদকের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায়। আমাদের এমন একটা দীর্ঘমেয়াদি সিস্টেম তৈরি করতে হবে যা বছরের পর বছর ধরে একজন অ্যাথলেটকে বুঝতে পারবে। যে সিস্টেম আগে থেকেই ঘাটতিগুলো ধরতে পারবে, বিজ্ঞান ও ডেটাকে বুদ্ধিদীপ্তভাবে ব্যবহার করবে, সঠিক কোচিং ও রিকভারির ব্যবস্থা করবে এবং চাপ বাড়লে মানসিকভাবে শক্তিশালী অ্যাথলেট তৈরি করবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সঠিক বিশেষজ্ঞের সাহায্য যেন একজন অ্যাথলেট তাঁর কেরিয়ারের সঠিক সময়ে পান, যখন তখন দেরি হয়ে যায়। অলিম্পিকের মঞ্চে যারা পদক জিতবেন, তাঁরা ইতিমধ্যেই নিজেদের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। তাই গেমসের ভালো দিকগুলি উদযাপন করার পাশাপাশি ঘাটতিগুলোকে সত্ভাবে স্বীকার করে এবং অদম্য তাগিদ নিয়ে আবার কঠোর অনুশীলনে ফিরে যাওয়ার সময় এখনই।