“ওজন বেড়ে হয়েছিল দ্বিগুণ!”-কোন জাদুতে ১৮ কেজি ঝরিয়ে ফের ছিপছিপে ঋতাভরী?

টলিপাড়ার ‘বং ক্রাশ’ ঋতাভরী চক্রবর্তী মানেই পর্দায় এক লাস্যময়ী ও বোল্ড অবতার। বিকিনি হোক বা দেশি লুক— সবেতেই তাঁর সাবলীল উপস্থিতি ভক্তদের হৃদয়ে ঝড় তোলে। তবে বেশ কিছুদিন আগে শারীরিক জটিলতার কারণে হঠাৎ করেই অনেকটাই ওজন বেড়ে গিয়েছিল নায়িকার। যা নিয়ে চর্চাও কম হয়নি। তবে সমস্ত প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফের নিজের মেদহীন ও আকর্ষণীয় চেহারায় ফিরে এসেছেন ঋতাভরী। আর কীভাবে এই অসম্ভবকে সম্ভব করলেন, সম্প্রতি তা নিজেই প্রকাশ্যে এনেছেন ‘ফাটাফাটি’ খ্যাত এই নায়িকা।

কেন বেড়েছিল ওজন?

ঋতাভরী জানান, অতীতে শ্যুটিং বা ফটোশ্যুটের আগে ফিট থাকতে তিনি কড়া ডায়েট করতেন। কিন্তু সেটাই তাঁর জীবনে কাল হয়ে দাঁড়ায়। একের পর এক অস্ত্রোপচার, বিশেষ করে গলব্লাডার বাদ যাওয়ার মতো ঘটনার সম্মুখীন হতে হয় তাঁকে। প্রথম অপারেশনের সময় তাঁর ওজন এত কমে গিয়েছিল যে অস্ত্রোপচারের টেবিলে তাঁর শরীর কাঁপছিল। চিকিৎসকরা সাফ জানিয়ে দেন, পরবর্তী অস্ত্রোপচারের জন্য ওজন বাড়াতেই হবে। এর পর আরও দু’বার অস্ত্রোপচার এবং কড়া ডোজের স্টেরয়েড ওষুধের জেরে হু হু করে বাড়তে থাকে তাঁর ওজন। চিকিৎসকদের পরামর্শে তখন শরীরচর্চাও বন্ধ রাখতে হয়েছিল।

দেড় বছরে ১৮ কেজি ওজন কমানোর জার্নি

তবে মুটিয়ে যাওয়া বা রোগা হওয়া নিয়ে নয়, ঋতাভরী এবার গুরুত্ব দিয়েছেন সুস্থতা এবং ফিটনেসের ওপর। কোমর বেঁধে নেমে পড়েন ওজন কমানোর লড়াইয়ে। দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে ধৈর্য রেখে, কোনো ধরনের ওষুধ বা শর্টকাট ছাড়াই ১৮ কেজি ওজন কমিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের সঠিক নির্দেশিকা মেনে কঠোর রুটিন ও শরীরচর্চার মাধ্যমে ফের ছিপছিপে অবয়ব ফিরে পেয়েছেন অভিনেত্রী।

কেমন ছিল ঋতাভরী প্রতিদিনের ডায়েট?

নিজের রূপ ও ফিটনেস ধরে রাখতে খাবার দাবারে এখন চরম কড়াকড়ি ঋতাভরীর। তাঁর প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা বেশ স্বাস্থ্যসম্মত:

  • সকালের শুরু: ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই ডাবের জল। এরপর ব্রেকফাস্টে একটি গোটা ডিম, তিনটি ডিমের সাদা অংশ, মাখন মাখানো এক টুকরো পাউরুটি এবং একটি কলা। গলব্লাডার বাদ যাওয়ার পর থেকে খালি পেটে চা-কফি খাওয়া একেবারে বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি।

  • দুপুরের খাবার: লাঞ্চে কখনও ব্রাউন রাইসের সঙ্গে মটন স্টু, আবার কখনও রোস্টেড চিকেন, কাবলিছোলার ডাল ও দুটি রুটি। তবে পাতে এক বাটি স্যালাড (গাজর, শসা, টম্যাটো, পেঁয়াজ) থাকতেই হবে।

  • বিকেলের স্ন্যাক্স: একটু চটপটা কিন্তু স্বাস্থ্যকর খাবার— যেমন মুড়িমাখা, চাট, চুরমুর বা কর্ন চাট পছন্দ তাঁর।

  • রাতের খাবার: ডিনারে অত্যন্ত হালকা কিন্তু প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার।

  • চিট ডে: রবিবারের দিন মেনুতে থাকে আধ প্লেট মটন বিরিয়ানি। বর্তমানে প্রতিদিন ১৫০০ ক্যালোরির বেশি খাবার খান না তিনি।

নিয়মিত জিম ও দিনে অন্তত এক ঘণ্টা হাঁটার অভ্যাসেই আজ আগের সেই ছিপছিপে লুকে ফিরেছেন ঋতাভরী। আর তাঁর এই ইন্সপায়ারিং ট্রান্সফরমেশন যে আসন্ন পুজোয় ভক্তদের মনে ফের দোলা দেবে, তা বলাই বাহুল্য!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *