নামী ওষুধ সংস্থায় বড় ধাক্কা! সিপলার গুদামের লাইসেন্স বাতিল করল এফডিএ, নেপথ্যে কোন চাঞ্চল্যকর কারণ?

ওষুধ প্রস্তুতকারক জনপ্রিয় সংস্থা সিপলা (Cipla)-র বিরুদ্ধে অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিল মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন (FDA)। প্যাকেজিংয়ে ভুল ব্র্যান্ডিং এবং গুদামে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুতর নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে পুনের ওয়াডকিতে অবস্থিত সংস্থাটির ক্যারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (C&F) গুদামের বিক্রয় ও বিতরণ লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ মেনে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া ও শুনানির পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এফডিএ।
ঠিক কী কারণে এই বড় পদক্ষেপ?
এফডিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগে গত অগাস্ট মাসে সিপলার ‘রিঅ্যাকটিন প্লাস’ (Reactin Plus) ট্যাবলেটের প্যাকেজিং, সংরক্ষণ এবং প্রত্যাহার প্রক্রিয়ায় একাধিক ত্রুটি ধরা পড়েছিল। প্রেসক্রিপশন ড্রাগ হওয়া সত্ত্বেও ওই ওষুধের প্যাকেজিংয়ে ব্যথানাশক হিসেবে ভুল ও অননুমোদিত প্রচারমূলক দাবি করা হয়। এছাড়া মানুষের প্রতিকৃতি এবং পেশী ব্যথার মতো ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল, যা ১৯৪০ সালের ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্ট অনুযায়ী ‘ভুল ব্র্যান্ডিং’ বা misbranding হিসেবে গণ্য হয়।
তদন্তে শুধুমাত্র প্যাকেজিংয়েই নয়, গুদামঘরের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনায় চরম গাফিলতি দেখতে পান আধিকারিকরা। নির্দিষ্ট পরিদর্শন বইয়ের অভাব, পর্যাপ্ত প্যালেট ও র্যাকের ঘাটতি, ওষুধের মজুতের ওপর ধুলো জমে থাকা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ আলাদা করে রাখার নির্দিষ্ট জায়গা বা এসওপি (SOP)-র অনুপস্থিতি নজরে আসে। এমনকি কম্পিউটার ডেটা বা এসএপি রেকর্ডের সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিকসহ প্রকৃত ওষুধের মজুতেও গরমিল পাওয়া যায়।
ওষুধের গুণমান ও নিরাপত্তা সবার আগে
কোম্পানির পক্ষ থেকে লিখিত জবাব ও শুনানির সুযোগ দেওয়া হলেও সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে এফডিএ কমিশনার তুকারাম মুন্ধে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, প্রস্তুতকারক হিসেবে নিজেদের দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। জনস্বার্থে ওষুধের নিরাপত্তা ও সরবরাহ শৃঙ্খলে সঠিক নিয়ম পালন নিশ্চিত করতেই এই স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন আদেশের ফলে নামী এই ফার্মা সংস্থার অন্দরে বড়সড় শোরগোল শুরু হয়েছে।