‘আমি ভবানীপুর ছাড়লে দিদি ফের লড়তেন!’ নন্দীগ্রামের জনসভা থেকে বিস্ফোরক মন্তব্য শুভেন্দু অধিকারীর

২০২৬ সালের নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন রাজনৈতিক পারদ চড়েছে চরমে। শুক্রবার নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া বাজারে বিজেপি মনোনীত প্রার্থী হাসি রানী রথের সমর্থনে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুসলিম সম্প্রদায়ের বহু মানুষসহ হাজার হাজার বিজেপি কর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে এই সভা থেকেই রাজ্যের শাসকদলকে তুলোধোনা করেন তিনি। হুঙ্কার ছেড়ে বলেন, এই দুর্নীতির সাথে জড়িত মূল অপরাধীকেও রেয়াত করা হবে না, তাকেও শ্রীঘরে যেতেই হবে।

কেন নন্দীগ্রাম ছেড়েছিলেন? ব্যাখ্যা দিলেন শুভেন্দু

এদিনের সভা থেকে নিজের অতীত রাজনৈতিক পদক্ষেপের কথা স্মরণ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি একসময়ে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর উভয় আসন থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলাম, যার ফলে আমাকে একটি আসন থেকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। আমি চাইলে ভবানীপুর থেকেও ইস্তফা দিতে পারতাম। কিন্তু তা করলে মাননীয়া ম্যাডাম সেখানে ফের লড়ার সুযোগ পেয়ে যেতেন। সেই কারণেই আমি নন্দীগ্রাম বেছে নিয়েছিলাম। তবে আমি কথা দিচ্ছি, আমার বিধায়ক দপ্তর আগের মতোই সবসময় খোলা থাকবে এবং আমি এখানকার মানুষের উন্নয়নে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করব।”

বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করে তিনি আরও বলেন, “ভোট গণনার দিনই আমি বলেছিলাম, এই দলের কোনো নাম বা প্রতীক থাকবে না। আজ সত্যিই তাদের নামও নেই, প্রতীকও নেই, এমনকি কোনো পোক্ত প্রার্থীও নেই। আপনারা তাদের এমনভাবে পরাস্ত করবেন যে তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যাবে।”

সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা

এদিনের সভা থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের কাছে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকবেন না। আমাদের সঙ্গে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার এটাই আপনাদের মোক্ষম সুযোগ। আপনাদের কেউ জোর করে ‘জয় শ্রী রাম’ বলতে বাধ্য করবে না। মনের সমস্ত ক্ষোভ ভুলে যান। একসঙ্গে ভোট দিন, আমাদের সঙ্গে হাত মেলায়ন এবং চলুন আমরা একসঙ্গে কাজ করি। অতীতে আমি যেমন আপনাদের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও আমি আপনাদের সঙ্গেই থাকব।”

চাকরি ও অন্যান্য প্রতিশ্রুতি

কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গে বড় ঘোষণা করে শুভেন্দু বলেন, “পিতৃপক্ষে সাধারণত আমি কোনো নতুন বা ভালো কাজ শুরু করি না। তবে আগামী ১১ অক্টোবর আমি নবনিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের হাতে সরাসরি নিয়োগপত্র তুলে দেব। আগামী এক বছরের মধ্যে রাজ্যে মোট এক লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।”

তৃণমূল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস আজ গরুর গাড়ির হেডলাইটে পরিণত হয়েছে। আর আপনারা কাকে বা ভোট দেবেন—কংগ্রেস এবং সিপিআই(এম), যারা এখন কেবল সাইনবোর্ডে পরিণত হয়েছে?” আগামী ৪ তারিখের ভোট গণনা নিয়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও বুথভিত্তিক নজরদারির ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *