দক্ষিণ ভারত থেকে সোজা মালদায়! আদিনা বনাঞ্চলে শুরু পরিযায়ী পাখির সুমারি, সংখ্যা ছাড়াতে পারে ১৪ হাজার

মালদার আদিনা ডিয়ার পার্ক ও মিনি চিড়িয়াখানায় শুরু হয়েছে বহু প্রতীক্ষিত পাখিসুমারির কাজ। প্রতি বছরের মতো এবারও বর্ষার মরসুমে দক্ষিণ ভারত থেকে উড়ে আসা এশিয়ান ওপেন বিলড্ স্টর্ক বা শামুকখোল পাখির দল আদিনার অরণ্যে বাসা বেঁধেছে। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, এবছর এই বনাঞ্চলে পাখির সংখ্যা গত বছরের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে ১৪ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
আদিনার অরণ্যে শামুকখোলদের রাজত্ব
মূলত জুন-জুলাই মাস থেকেই উত্তরবঙ্গের রায়গঞ্জ সংলগ্ন কুলিক ফরেস্ট এবং আদিনা বনাঞ্চলে ভিড় জমাতে শুরু করে এই পরিযায়ী পাখিরা। বর্ষার এই সময়টায় তারা এখানে ডিম পাড়ে এবং ছানারা একটু বড় হলে শীতের শুরুতে নিজ ঠিকানায় ফিরে যায়। বন দফতর ও গবেষকদের একটি যৌথ দল এবার নিবিড়ভাবে এই পাখিসুমারি পরিচালনা করছে। গাজোল রেঞ্জের রেঞ্জার লতিব শেখ জানিয়েছেন, প্রতিটি বাসাতেই ছানাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা বিগত বছরের তুলনায় সংখ্যা বৃদ্ধির জোরাল ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নজর কাড়ছে ১২৯ প্রজাতির পাখি
শুধুমাত্র শামুকখোলই নয়, আদিনা বনাঞ্চলে মোট ১২৯ প্রজাতির পাখির বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইন্ডিয়ান প্যারাডাইস ফ্লাইক্যাচার, ইন্ডিয়ান গোল্ডেন অরিয়েল, কপার স্মিথ বারবেট, শিকরা এবং অরিয়েন্টাল হোয়াইট আই-এর মতো অসাধারণ সব পাখি। গবেষক শুভ্র পালের মতে, কলোনি তৈরি করে বসবাস করা এই পরিযায়ী পাখিদের সুমারি করার জন্য বাসাগুলি চিহ্নিত করে সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গণনা করা হচ্ছে। নিরাপদ আশ্রয় ও অনুকূল পরিবেশের টানে প্রতি বছর মালদার এই বনাঞ্চলে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া গোটা অঞ্চলের প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অত্যন্ত গর্বের বিষয়।